রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
২৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
অপরাধ উন্মোচন
অপরাধ

নানা কৌশলে খাসজমির মালিক ভূমি অফিসের কর্মচারীরা

৬-০৮-২০২৬৭০
4
নানা কৌশলে খাসজমির মালিক ভূমি অফিসের কর্মচারীরা
"বরিশালের আড়িয়াল খাঁ নদের তীরে সরকারি খাসজমি দখল করে গড়ে তোলা বিশাল মাছের ঘের ও চরের জমি।"

বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন:

রক্ষকই যেখানে ভক্ষক! বরিশাল অঞ্চলে সরকারি খাসজমি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজেরাই জাল কাগজপত্র তৈরি করে শত শত একর সরকারি জমি পকেটে পুরছেন। আড়িয়াল খাঁ কিংবা কীর্তনখোলার তীরে জেগে ওঠা চরের জমি ভূমিদস্যুদের পাইকারি দরে বন্দোবস্ত দেওয়ার পাশাপাশি নিজেরা, স্বজনদের নামে কিংবা ভুয়া কাগজে খাসজমি বাগিয়ে নিয়ে গড়ে তুলেছেন বিশাল মাছের ঘের, খামার ও বহুতল ভবন।

৫০ একর খাসজমিতে সার্ভেয়ারের রাজত্ব

বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নে আড়িয়াল খাঁ নদের তীরে ১ নম্বর খাস খতিয়ানের প্রায় ৫০ একর সরকারি জমি দখল করে বিশাল মাছের ঘের, গবাদিপশুর খামার ও ফল-সবজির বাগান গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে মো. আকতারুজ্জামান নামে এক সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে। তিনি বর্তমানে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে কর্মরত।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২১ সালে আক্তারুজ্জামান যখন বরিশাল সদরের সার্ভেয়ার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন, তখন ক্ষমতার অপব্যবহার করে কাগুজে বন্দোবস্তের মাধ্যমে জমিগুলো নিয়ন্ত্রণে নেন এবং ২০২৩ সালে বিশাল ঘেরের কাজ শুরু করেন। এই অনিয়মের কারণেই সম্প্রতি একই ব্যাচের অন্যান্য কর্মকর্তা কানুনগো পদে পদোন্নতি পেলেও আটকে গেছে আক্তারুজ্জামানের পদোন্নতি। তবে আক্তারুজ্জামান দাবি করেছেন, সার্ভিসের ভুল ত্রুটির কারণে তাঁর পদোন্নতি হয়নি এবং ঘেরটি তাঁর চাচাতো ভাই দুই একর ৬৭ শতাংশ জমিতে করেছেন।

রসুলপুর চরে ৪ সার্ভেয়ারের ৪ বহুতল ভবন

কীর্তনখোলা নদীসংলগ্ন নগরীর রসুলপুর ও মোহাম্মদপুর চরের হাজার হাজার একর সরকারি জমি রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা দখল করলেও তা কাগজপত্রে বৈধতা দিতে সহায়তা করেছেন সাবেক চার সার্ভেয়ার— হাবিবুর রহমান, আবু হানিফ, মো. হানিফ ও বজলুর রহমান।

বিনিময়ে নিজেরাও খাসজমি বাগিয়ে নিয়েছেন। চরের চকবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছেই আবু হানিফ তিনতলা এবং বজলুর রহমান, হাবিবুর রহমান ও মো. হানিফ দোতলা ভবন নির্মাণ করেছেন। সার্ভেয়ার আবু হানিফ ভবন ও জমি তাঁর নামে রেকর্ডভুক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

বিভাগীয় মামলা, চাকরিচ্যুতি ও জেল-জরিমানা

খাসজমি দখলের এই মহামারিতে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে:

হিজলায় ২ হাজার একর দখল: ধুলখোলা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী চন্দ্র মালাকারকে ১০৫টি ভুয়া দাখিলার মাধ্যমে নিজ ও বেনামে প্রায় ২ হাজার একর জমি দখলের দায়ে গত ২২ জুলাই চাকরিচ্যুত করা হয়।

রেকর্ড জালিয়াতি ও বরখাস্ত: বানারীপাড়ার বিশারকান্দি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা আছমা আক্তার ও বরগুনার মো. আবুল কালাম আজাদকে খাসজমি হস্তান্তরে সহায়তার অভিযোগে গত ৩০ জুন চাকরিচ্যুত ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।

কারাগারে কানুনগো ও তহশিলদার: গত ১ জানুয়ারি ভূমি জালিয়াতির মামলায় বাবুগঞ্জের কানুনগো মো. তফিকুর রহমান ও তহশিলদার আব্দুল বারেককে কারাগারে পাঠান আদালত। এছাড়া কলাপাড়ায় ৭৩ একর জমি দখলের অভিযোগে প্রেষণে থাকা সার্ভেয়ার মো. হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।

— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মোট ০ প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।

প্রতিবেদক
ক্রাইম রিপোর্টার
অপরাধ বিভাগ · অপরাধ উন্মোচন
নিউজলেটার

দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান

যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।