রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
২৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
অপরাধ উন্মোচন
অপরাধ

সাংবাদিক মোরশেদ আলী মারুফকে হয়রানি ও অপপ্রচারের অভিযোগ, তীব্র প্রতিবাদ সাংবাদিক সংগঠনগুলোর

১৯-০৮-২০২৬১০
4
সাংবাদিক মোরশেদ আলী মারুফকে হয়রানি ও অপপ্রচারের অভিযোগ, তীব্র প্রতিবাদ সাংবাদিক সংগঠনগুলোর
সাংবাদিক মোরশেদ আলী মারুফকে হয়রানি ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সাংবাদিক সংগঠনগুলো।

একটি প্রতারক নারী চক্রের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে চরম হয়রানি, আইনি নোটিশ ও অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোরশেদ আলী মারুফ। ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দাবি, ওই কথিত নারী ও তাঁর সংঘবদ্ধ চক্রের ব্ল্যাকমেইলিং এবং বিপুল অর্থ আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য-প্রমাণ ও ভিডিও ফুটেজ হাতে পাওয়ার পরই তাঁর বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সত্য প্রকাশ ঠেকাতে এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দিতেই তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়ে উঠেছে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে ‘সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল, বাংলাদেশ’।

তদন্ত প্রতিবেদন ঠেকাতে আইনি নোটিশ ও অপপ্রচার

ঘটনার বিবরণ বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, ওই চক্রটির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকেই সাংবাদিক মারুফকে নানাভাবে মানসিক চাপে রাখার চেষ্টা করা হয়। সম্প্রতি ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দিতে ওই নারীর পক্ষ থেকে সাংবাদিক মারুফকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয় এবং একই সাথে তাঁর বিরুদ্ধে পাল্টা একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সাংবাদিক মারুফের পক্ষের দাবি, সম্পূর্ণ ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অনুসন্ধানী তথ্য-প্রমাণ যাতে জনসমক্ষে না আসে, তার জন্যই এই আইনি ও সামাজিক চাপ তৈরির অপকৌশল নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবাদে সোচ্চার ঢাকা মেট্রোপলিটন ক্রাইম রিপোর্টার সোসাইটি

সাংবাদিক মোরশেদ আলী মারুফকে এ ধরনের হয়রানি ও নাজেহাল করার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে দেশের সাংবাদিক সমাজ। ঢাকা মেট্রোপলিটন ক্রাইম রিপোর্টার সোসাইটিসহ বেশ কয়েকটি সংবাদকর্মী সংগঠন যৌথ বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট জানান, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা আইনের সঠিক প্রক্রিয়ায় সমাধান হতে পারে। কিন্তু পেশাগত কাজের জন্য কোনো সাংবাদিককে ভয়ভীতি দেখানো, আইনি নোটিশ দিয়ে কণ্ঠরোধ করা কিংবা সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি ‘সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের’

ঘটনাক্রেমে ক্ষোভ প্রকাশ করে ‘সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল, বাংলাদেশ’-এর প্রধান মো. খায়রুল আলম রফিক বলেন, "সাংবাদিক মোরশেদ আলী মারুফকে নিয়ে যা ঘটছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বস্তুনিষ্ঠ তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে প্রকাশের অধিকার প্রতিটি সাংবাদিকের আছে। তা না দিয়ে চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে কণ্ঠরোধের চেষ্টা একটি স্বাধীন দেশের গণমাধ্যমের জন্য হুমকি।" তিনি দ্রুত এর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন এবং স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন—সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধ না হলে সর্বস্তরের গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক ও আইনসম্মতভাবে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব ও সামাজিক বার্তা

সাংবাদিক নেতারা অবিলম্বে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পুরো ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। অপরাধীদের প্রকৃত চেহারা উন্মোচন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, যখনই কোনো অপরাধচক্র বা ব্লেকমেইলার গোষ্ঠী সাংবাদিকদের থামিয়ে দেওয়ার জন্য আইনি কাঠামোর অপব্যবহার করে, তখন তা গোটা সমাজের নিরাপত্তার ভিত্তি নাড়িয়ে দেয়। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য প্রকাশ পাওয়া এখন সময়ের বড় দাবি, যেন কোনো অপরাধী পার পেয়ে না যায় এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার সুরক্ষাও নিশ্চিত হয়।

— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মোট ০ প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।

প্রতিবেদক
ক্রাইম রিপোর্টার
অপরাধ বিভাগ · অপরাধ উন্মোচন
নিউজলেটার

দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান

যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।