বাঞ্ছারামপুরে সংঘর্ষে নিহত জুয়েল: নরসিংদী থেকে ভাড়া করে আনা হয়েছিল বলে পুলিশের তথ্য

আনোয়ার হোসেন, বাঞ্ছারামপুর:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত জুয়েল মিয়া (৩০) হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভোররাত চারটার দিকে উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত জুয়েল নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামের সেন্টু মিয়ার ছেলে।
সংঘর্ষের পেছনের প্রেক্ষাপট
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শান্তিপুর গ্রামের বাসিন্দা মোক্তার হোসেন ও মোমেনের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বর্তমানে গ্রামটিতে মোমেন গ্রুপের আধিপত্য রয়েছে। গ্রামটি থেকে মোমেন গ্রুপকে বিতাড়িত করে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা ও এলাকা দখলের পরিকল্পনা করে মোক্তার গ্রুপ।
অভিযোগ রয়েছে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পার্শ্ববর্তী নরসিংদীর রায়পুরা থেকে লোকজন বা ভাড়াসূত্রে লোক এনে সংঘর্ষে নামায় মোক্তার গ্রুপ। গত সোমবার ভোরে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষ চলাকালে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান মোক্তার গ্রুপের হয়ে লড়তে আসা জুয়েল মিয়া। এছাড়া উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।
পুলিশের বক্তব্য ও অস্ত্র উদ্ধার
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াসিন জানান, "নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য মোক্তার গ্রুপের লোকজন চেয়েছিল মোমেন গ্রুপের লোকজনকে গ্রাম থেকে বের করে দিতে। সেজন্যই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। নিহত জুয়েল মোক্তার গ্রুপের হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল।"
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি বন্দুক, পাঁচ রাউন্ড গুলি ও পাঁচটি তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।