ইসিতে জামায়াতের ৯ দফা দাবি অতিরিক্ত সচিবের নিয়োগ বাতিল ও শিক্ষকদের প্রার্থিতা বহালের তাগিদ

বিশেষ প্রতিবেদক
ঢাকা
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের বিতর্কিত অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আলমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বহাল রাখা এবং নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পদধারীদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখাসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আজ বুধবার নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্যান্য কমিশনারদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের এসব দাবির কথা জানান। একই সাথে ইসি রাজনৈতিক চাপের মুখে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না বলে মন্তব্য করে কমিশনের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
অতিরিক্ত সচিব সামসুল আলমের নিয়োগ বাতিল ও ইসির 'অসহায়ত্ব'
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ইসি একটি সাংবিধানিক নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান। অথচ ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী আসন পুনর্নির্ধারণ কমিটির সদস্য থাকা মো. সামসুল আলমকে অতিরিক্ত সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যাতে তিনি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারি দলের লোকদের সুবিধা দিতে পারেন। জামায়াত সেক্রেটারি জানান, ইসির তরফ থেকে তাদের বলা হয়েছে সামসুল আলমের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়টি তাদের জানা ছিল না এবং এই নিয়োগ সরকার দিয়েছে। জবাবে জামায়াত বলেছে, নিরপেক্ষতার স্বার্থে ইসি এই নিয়োগ নিয়ে আপত্তি জানাতে পারত। ইসির জবাবে তাদের অক্ষমতা ও অসহায়ত্বের চিত্র ফুটে উঠেছে বলে দাবি করেন তিনি।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও স্থানীয় প্রশাসকদের বিষয়ে কঠোর আপত্তি
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণা করার একটি প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে। এর তীব্র বিরোধিতা করে জামায়াত জানায়, শিক্ষকেরা সুদীর্ঘকাল ধরে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। যেখানে জাতীয় নির্বাচনে শিক্ষকদের কোনো বিধিনিষেধ নেই, সেখানে স্থানীয় নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা নাগরিক অধিকারের বরখেলাপ ও স্পষ্ট বৈষম্য। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করা রাজনৈতিক প্রশাসক এবং গণ-অভ্যুত্থানে নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের পদধারী নেতাদেরও আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানানো হয়।
আদালতের আদেশের গেজেট ও রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ
চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের গেজেট প্রকাশের সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আদালতের লিখিত ও স্বাক্ষরিত আদেশের কপি হাতে না পাওয়া সত্ত্বেও তাড়াহুড়ো করে ইসি গেজেট জারি করে শপথে পাঠিয়েছে। ইসির কথা ও 'বডি ল্যাঙ্গুয়েজ' দেখে পরিষ্কার বোঝা গেছে যে তারা প্রচণ্ড রাজনৈতিক চাপের মধ্যে এসব কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন। জামায়াত নেতারা মনে করেন, ইসি একটি স্বাধীন ক্ষমতাধর প্রতিষ্ঠান হলেও স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালনে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।
বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ ও ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের পক্ষে অন্যান্যের মধ্যে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির উপস্থিত ছিলেন।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।