বাংলাদেশি পিইটি ফিল্মে ভারতের অ্যান্টি-ডাম্পিং তদন্ত ৬ আগস্ট শুনানি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক:
পাটজাত পণ্য ও হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের পর এবার বাংলাদেশে উৎপাদিত পলিইথিলিন টেরেফথালেট (পিইটি) ফিল্মের বিরুদ্ধে অ্যান্টি–ডাম্পিং তদন্ত শুরু করেছে ভারতের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা ‘বাণিজ্য প্রতিকার মহাপরিদপ্তর’ (ডিজিটিআর)। অতিরিক্ত কম দামে ভারতীয় বাজারে এই পণ্য বিক্রির মাধ্যমে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে—ভারতের চিরিপাল পলি ফিল্মস, ইস্টার ইন্ডাস্ট্রিজ ও ভ্যাকমেট ইন্ডিয়ার এমন অভিযোগের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। এতে বাংলাদেশের সাথে চীন ও থাইল্যান্ডের পিইটি ফিল্মকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আগামী ৬ আগস্ট ভার্চ্যুয়াল শুনানির আয়োজন করেছে সংস্থাটি।
"আমরা কোনো ডাম্পিং করিনি"—প্রস্তুত আকিজ বায়াক্স ফিল্মস
বাংলাদেশের প্রধান পিইটি ফিল্ম রপ্তানিকারক ও আকিজ বশির গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ‘আকিজ বায়াক্স ফিল্মস লিমিটেড’ ভারতে ডাম্পিংয়ের সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। বছরে প্রায় ১০ হাজার টন পিইটি ফিল্ম ভারতের বাজারে পাঠানো এই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার শেখ বশিরউদ্দীন স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আমাদের রপ্তানি সম্পূর্ণ বাজারভিত্তিক এবং কোনো ডাম্পিং ঘটেনি। ৬ আগস্টের শুনানিতে আমরা যুক্তি ও তথ্যপ্রমাণসহ অবস্থান তুলে ধরতে প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
ডব্লিউটিওর (WTO) শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ সিপিডির
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভ্যন্তরীণ খরচের এই বাস্তবতায় বাংলাদেশি কোনো প্রতিষ্ঠান উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে ভারতে পণ্য ডাম্পিং করছে—তা বিশ্বাসযোগ্য নয়।” অতীতে রহিমআফরোজের ব্যাটারির ওপর ভারত এভাবে শুল্ক বসাতে চাইলে বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) দরকষাকষি শুরু করে এবং ৬০ দিনের মাথায় ভারত অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত সরকারের এহেন একতরফা বাণিজ্যিক বাধার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের এবারও ডব্লিউটিওর কাঠামো ব্যবহারের নজির তৈরি করা উচিত।
বাণিজ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও পূর্বের তিক্ত অভিজ্ঞতা
এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, সরকার পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে এবং অচিরেই ভারতের কাছে পিইটি ফিল্মের ওপর অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক আরোপ না করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠাবে। উল্লখ্য, ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশি পাটপণ্যে ভারতের বিতর্কিত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক বহাল থাকার পর সম্প্রতি হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডেও এটি কার্যকর রয়েছে। এছাড়া নতুন করে ফ্লোট গ্লাস ও ফিশিং নেটের ওপর শুল্ক আরোপের ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। বৈশ্বিক ১১ বিলিয়ন ডলারের পিইটি ফিল্ম বাজারে এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল মোড়ক শিল্পের জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক ধাক্কা হতে পারে।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।