বদলির আদেশ গায়েব করে নিজেই রাজত্ব চালাচ্ছেন! চট্টগ্রাম বন বিভাগে ইউছুপের কোটি টাকার মাসোহারা সিন্ডিকেট

নিজস্ব প্রতিবেদক , চট্টগ্রাম
সরকারি বদলির আদেশ গোপন ও দাপ্তরিক নথি গায়েব করে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে একই কার্যালয়ে চেপে বসেছেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষকের (সিএফ) কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ ইউছুপ। সরকারি চাকরি বিধিমালা তোয়াক্কা না করে বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান সহকারী হিসেবে কার্যালয়টিতে তিনি একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করছেন। অভিযোগ উঠেছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের অধীনে থাকা ৯টি বন বিভাগ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায়, বদলি বাণিজ্য এবং চাঁদাবাজির এক বিশাল সিন্ডিকেট একাই নিয়ন্ত্রণ করছেন তিনি।
ই-মেইল থেকে বদলির নথি গায়েব করার চাঞ্চল্যকর কৌশল
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তৎকালীন সিএফ বিপুল কৃষ্ণ দাস এক আদেশের মাধ্যমে ইউছুপকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগে বদলি করেন। কিন্তু বদলির আড়াই বছর পার হলেও তিনি বহাল তবিয়তেই সিএফ কার্যালয়ে রয়ে গেছেন। ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সাবেক ওই কর্মকর্তা বদলি হয়ে গেলে ইউছুপ আদেশের মূল নথি সরিয়ে ফেলেন। এমনকি চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের দাপ্তরিক ই-মেইল থেকেও তৎকালীন এক কর্মকর্তার যোগসাজশে আদেশের কপি মুছে দেওয়া হয় বলে দায়িত্বশীল সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
৯ ডিভিশনজুড়ে মাসোহারা ও ‘প্রাইজ পোস্টিং’ বাণিজ্য
সিএফ কার্যালয়ের কর্মচারীদের দাবি, ইউছুপের নির্দেশমতো প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ না দিলে চরম হয়রানি ও দুর্গম এলাকায় বদলির হুমকি সহ্য করতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি শহর ও সদর রেঞ্জ এবং চেক স্টেশন থেকে মাসে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত বাঁধাধরা চাঁদা নেন তিনি। এছাড়া কাঠ পারমিটের ঘনফুট প্রতি বিশেষ কমিশন জমা হয় তাঁর পকেটে। বন অধিদপ্তরের ৩ বছর মেয়াদী বদলি নীতিমালা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পছন্দসই 'প্রাইজ পোস্টিং' দিয়ে তিনি কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য চালাচ্ছেন।
প্রশাসনের নীরবতা ও অভিযুক্তদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন
বর্তমান বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো-এর আমলেও এই বদলি সিন্ডিকেট সমান তালে সক্রিয় বলে জানা গেছে। অভিযোগ বিষয়ে মোহাম্মদ ইউছুপ এবং বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো—উভয়ের সাথেই একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন পাওয়া যায়। প্রশাসনিক নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা গেছে, সাবেক বেশ কয়েকজন বন সংরক্ষকের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড আড়াল করার বিনিময়ে ইউছুপকে দীর্ঘদিন এই পদে টিকিয়ে রাখা হয়েছে।
সামাজিক প্রভাব ও দুদক তদন্তের দাবি
সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় দিনের পর দিন এভাবে নিয়ম ভেঙে ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনা প্রশাসনিক কাঠামোর ভঙ্গুর দশাকেই স্পষ্ট করে তোলে। দুর্গম এলাকায় বছরের পর বছর ধরে পড়ে থাকা সৎ কর্মচারীদের মাঝে এই বৈষম্য চরম অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে। সাধারণ সেবাগ্রহীতা ও ভুক্তভোগী কর্মচারীদের জোর দাবি, কেবল বদলিকৃত কর্মস্থলে পাঠানোই নয়, বরং দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত এই হিসাবরক্ষকের অবৈধ সম্পদের খোঁজে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করতে হবে।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।