মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
অপরাধ উন্মোচন
nationwide

১৪ বছর ও ২৮১১ কোটি টাকা খরচ শেষে গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত সরকারের

২০-১০-২০২৬২০
4
১৪ বছর ও ২৮১১ কোটি টাকা খরচ শেষে গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত সরকারের
"ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিআরটি প্রকল্পের অসমাপ্ত অবকাঠামো ও ট্রাফিক চিত্র।"

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:

দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে চলা নির্মাণকাজ, দফায় দফায় ব্যয় বৃদ্ধি এবং জনগণের চরম দুর্ভোগের পর অবশেষে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত বাস্তবায়নাধীন বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পটি পুরোপুরি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে প্রকল্পের বর্তমান অবকাঠামো ভেঙে ফেলে সড়কটিকে তিন থেকে ছয় লেনের সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তর করা হবে।

প্রকল্প বাতিলের নেপথ্য কারণ ও পটভূমি

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১২ সালে বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের শিববাড়ী পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বিআরটি প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিক ব্যয় ২ হাজার ৪০ কোটি টাকা ধরা হলেও, তিন দফা সংশোধনে তা বেড়ে ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকায় দাঁড়ায়, যার মধ্যে ইতোমধ্যে খরচ হয়েছে ২ হাজার ৮১১ কোটি টাকা। তবে বিশেষ এই বাস সার্ভিস চালুর মূল লক্ষ্য অর্জিত হয়নি।

বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হকের নেতৃত্বে গঠিত বিশেষজ্ঞ দলের পর্যালোচনা অনুযায়ী, যথাযথ কারিগরি যাচাই, দক্ষ জনবল ও সমন্বয়ের অভাবের কারণে প্রকল্পটি ‘পদ্ধতিগত ব্যর্থতা’র শিকার হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশে বিদ্যমান বাসগুলোর দরজা বাঁ দিকে হলেও বিআরটি লেনের স্টেশনগুলো এমনভাবে তৈরি ছিল যেখানে বাসের দরজা ডান দিকে হওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল, যা সামগ্রিক চলাচলের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ছিল।

মন্ত্রিসভার নতুন সিদ্ধান্ত ও কর্মপরিকল্পনা

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মন্ত্রিসভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস্তবায়িত হবে যেসব পদক্ষেপ:

  • সড়ক প্রশস্তকরণ: বিআরটি করিডরের মাঝের স্টেশন ও লেন বিভাজক অপসারণ করে সড়কটিকে ৩ থেকে ৬ লেনের সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তর করা হবে এবং দুটি দুই লেনের উড়ালসড়ককে চার লেনে উন্নীত করা হবে।

  • কোম্পানি বিলুপ্তিকরণ: ‘ঢাকা বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি’ বিলুপ্ত করে এর সমস্ত কার্যক্রম সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) আওতাভুক্ত করা হবে।

  • বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা: গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ করতে এবং রেলের তৃতীয় ও চতুর্থ লাইনের কাজ শেষের পথে থাকায় কমলাপুর পর্যন্ত কমিউটার ট্রেন সেবা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • অগ্রগতি প্রতিবেদন: সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি জরুরি ভিত্তিতে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়কে জানাতে বলা হয়েছে।

— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মোট ০ প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।

প্রকাশক
নিজস্ব প্রতিবেদক
অপরাধ উন্মোচন
নিউজলেটার

দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান

যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।