রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
২৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
অপরাধ উন্মোচন
রাজনীতি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ: অসুস্থতার অজুহাত নাকি রাজনৈতিক সমীকরণ?

…

২৩-০৭-২০২৬১২০১২
4
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ: অসুস্থতার অজুহাত নাকি রাজনৈতিক সমীকরণ?

বিশেষ প্রতিবেদক : ঢাকা

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র গুঞ্জন ছড়াতে শুরু করেছে। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে খুব শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র ও বঙ্গভবনকেন্দ্রিক খবর অনুযায়ী, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত এই রাষ্ট্রপতিকে ইতিমধ্যে ক্ষমতাসীন বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে পদত্যাগের বিষয়ে একটি পরিষ্কার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর পরপরই রাষ্ট্রপতি নিজেও তাঁর অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বঙ্গভবন ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। জানা গেছে, ক্ষমতা ছাড়ার পর কিছুদিন বিশ্রামে থেকে চিকিৎসার তাগিদে তিনি বিদেশ পাড়ি দিতে পারেন।

শারীরিক অসুস্থতার নেপথ্যে রাজনৈতিক বার্তার আভাস

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়া মো. সাহাবুদ্দিনের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে ছিল। তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার বা ছাত্রনেতাদের দাবির মুখেও বিএনপি তাঁকে সরানোর ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করেনি। তবে সরকার গঠনের পর রাজনৈতিক পটভূমি সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নেওয়ায় এখন তাকে বঙ্গভবন থেকে সরানোর চূড়ান্ত উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত বঙ্গভবন কিংবা সরকারি তরফ থেকে এ বিষয়ে কোনো দাপ্তরিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা: সচিবের নাম ঘিরে নতুন কৌতুহল

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের খবরের সাথেই নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে—কে হতে যাচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? প্রাথমিক অবস্থায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন বা আবদুল মঈন খানের নাম শোনা গেলেও এখন হঠাৎ করেই আলোচনায় এসেছে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত এক জ্যেষ্ঠ সচিবের নাম। প্রশাসনিক দক্ষতা এবং পরবর্তী সংসদ নির্বাচন সামলানোর কৌশলগত বিবেচনা থেকে রাষ্ট্রীয় উচ্চপর্যায়ে এই সচিবের নাম জোরালোভাবে ভাসছে। অবশ্য বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু অবগত নন বলে জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ও সংবিধানের পথরেখা

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশ্যে পদত্যাগপত্র পেশ করে নিজ পদ ছাড়তে পারেন। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদ খালি হলে স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পরবর্তী ৯০ দিনের ভেতরে সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। জাতীয় সংসদে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় নতুন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দলটির মনোনীত ব্যক্তি নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি একপ্রকার নিশ্চিত।

অতীতের বিতর্ক ও সামাজিক-রাজনৈতিক প্রভাব

সাবেক দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কমিশনার থাকাকালে এস আলম গ্রুপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং পদত্যাগের আগে ইসলামী ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান থাকার কারণে সাহাবুদ্দিনের রাষ্ট্রপতি পদে নিযুক্তি নিয়ে শুরু থেকেই জনমনে নানা বিতর্ক ছিল। ফ্যাসিবাদের সময়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার 'একক সিদ্ধান্তে' মনোনীত হওয়ার যে অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে ছিল, তা রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। একটি অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাষ্ট্রে নতুন রাষ্ট্রপ্রধানের নিয়োগ কেবল একটি সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং রাষ্ট্র সংস্কার, রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক ভূমিকা রাখবে।

— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মোট ০ প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।

প্রকাশক
নিজস্ব প্রতিবেদক
অপরাধ উন্মোচন
নিউজলেটার

দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান

যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।