দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণ | সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি
…

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ‘আউটরিচ’ পর্বে অংশ নেওয়ার জন্য বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না—সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
কূটনৈতিক পত্রের বার্তা ও বিমসটেকের গুরুত্ব
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কূটনৈতিক সূত্র জানায়, গত ১৪ জুলাই ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে একটি কূটনৈতিক পত্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। একই তথ্য নিশ্চিত করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ২৩ জুলাই জানান, প্রধানমন্ত্রীর নামে আসা আমন্ত্রণপত্রটি ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেন, ব্রিকস প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবারের সম্মেলনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ‘সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়ন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই সম্মেলনে বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানের অংশগ্রহণ আলোচনাকে আরও সমৃদ্ধ করবে। পাশাপাশি সম্মেলনের ফাঁকে তারেক রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও মতবিনিময়ের বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মোদি।
মোদি-তারেক প্রথম বৈঠকের সম্ভাবনা ও কূটনৈতিক সুযোগ
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিকসের আউটরিচ পর্বে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কেবল একটি বহুপক্ষীয় বৈঠকে উপস্থিত থাকার বিষয় নয়। ২০২৩ সাল থেকেই বাংলাদেশ উদীয়মান অর্থনীতির জোট ব্রিকসের পূর্ণ সদস্যপদের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে এবং চীন ও রাশিয়ার সমর্থনও পেয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবীর মনে করেন, নির্বাচনের পর এই সম্মেলনটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে সম্ভাব্য প্রথম শীর্ষ বৈঠকের এক অনন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। এছাড়া সম্মেলনে চীন ও রাশিয়ার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পথ উন্মুক্ত হবে।
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েন ও ভূরাজনৈতিক হিসাব
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যকার বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা এবং গত ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের টানাপোড়েনের বিষয়টিও বিবেচনা করছে বাংলাদেশ সরকার। বিশেষ করে সীমান্তে ভারতের ‘পুশ-ইন’ চেষ্টা, ভারতীয় নেতাদের বিতর্কিত মন্তব্য এবং ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফিরে রাজনীতি করার ইচ্ছা প্রকাশের মতো সংবেদনশীল ইস্যুগুলোর কারণে সরকার অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানান, বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য নয় বরং পর্যবেক্ষক হিসেবে আমন্ত্রিত, তাই এটি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। সব কূটনৈতিক সমীকরণ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসাব করেই সরকার দ্রুতই এ নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।