বাবার আর্তনাদ: কলিজার টুকরা ফিরে পাওয়ার ব্যাকুল আকুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (আইসিইউ) ঠান্ডা ঘরটির বাইরে ভারী হয়ে উঠেছে বাতাস। দরজার ওপারে লাইফ সাপোর্টে নল আর যন্ত্রের সঙ্গে লড়াই করছে ১৮ বছরের তাজা এক প্রাণ—মিনহাজুল ইসলাম রোজান। আর বাইরে আইসিইউর দরজায় হাত রেখে এক নিষ্পাপ বাবার নীরবে ঝরছে চোখের জল। নিজের কলিজার টুকরা, রক্তের বাঁধন সন্তানকে সুস্থ অবস্থায় বুকে ফিরে পাওয়ার আকুল আকুতিতে ভারী হয়ে উঠেছে সোহ্রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বাতাস।
"আমার রোজান শুধু আমার ছেলেই ছিল না, ও ছিল আমাদের পরিবারের আলো, সহপাঠী আর পরিচিতদের পরম প্রিয় এক মুখ," বলছিলেন সজল চোখে এক ভেঙে পড়া পিতা। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে নির্ঝর বিআইএসসি (BISC) স্কুল অ্যান্ড কলেজের টানা শ্রেণি প্রতিনিধি ও বিএনসিসির ক্যাডেট ক্যাপ্টেন হিসেবে যে তরুণ সমান দক্ষতায় নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে, যাকে সবাই চেনে এক সুশৃঙ্খল, সদা হাস্যোজ্জ্বল ও মেধান্বয়ী তরুণ হিসেবে—আজ সেই রোজানই মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
এইচএসসি পরীক্ষার সামান্য মানসিক ধকল আর পারফেকশনিজমের চাপ যে এত বড় ঝড় ডেকে আনবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি স্বজনরা। প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার সময় হঠাৎ প্যানিক অ্যাটাক ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পর থেকে একে একে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো স্থবির হয়ে পড়তে শুরু করে। রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে নেমে যাওয়া, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস আর অর্গান জটিলতায় চিকিৎসকদের ৪৮ ঘণ্টার ‘রেড অ্যালার্ট’ বাবার বুকে যেন একেকটি তীরের মতো বিধছে।
আইসিইউর সামনে নিঝুম রাতে জেগে থাকা পিতা একা নন, তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে শত শত মানুষের ভালোবাসা। রাত জেগে দোয়ায় শামিল হওয়া নেতাকর্মী, বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের এই নিঃস্বার্থ উপস্থিতিকে জীবনের সবচেয়ে বড় মানবিক অর্জন মনে করলেও, বাবার মনের একমাত্র প্রাপ্তি এখন শুধুই রোজানের একটিবার চোখ মেলা।
"পাওয়ার আর হারানোর এই দুনিয়ায় ক্ষমতা বা পদের কোনো মূল্য নেই, যখন নিজের সন্তান আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকে। আল্লাহ যেন আমার ছেলেকে আমার বুকে ফিরিয়ে দেন," আকুল কণ্ঠে ব্যক্ত করেন তিনি।
একটি সুস্থ, প্রাণবন্ত তরুণের এমন আকস্মিক শারীরিক অবক্ষয়ে সবার চোখেই আজ পানি। দেশবাসী ও সর্বস্তরের মানুষের কাছে পরিবারের পক্ষ থেকে বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে—সবাই যেন এই নিবেদিতপ্রাণ ক্যাডেট ও মেধাবী শিক্ষার্থীর দ্রুত আরোগ্যের জন্য পরম করুণাময়ের দরবারে দোয়া করেন। পিতা এখন শুধু সেই মুহূর্তটির অপেক্ষায়, কখন আইসিইউর দরজা খুলে ডাক্তার এসে বলবেন—"আপনার রোজান বিপদমুক্ত।"
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।