খিলক্ষেতের জনপ্রিয় রাজনীতিবিদের বিদায়: সোহরাব খান স্বপনের প্রয়াণে শোকের ছায়া

খিলক্ষেত থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট সমাজসেবক সোহরাব খান স্বপন (৬৫) আর নেই। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী রেহেনা খানম, একমাত্র পুত্র মো. সাজ্জাদ খান, কন্যা সায়িমা খানম তানিশাসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, সহযোদ্ধা ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তার প্রয়াণের খবর নিশ্চিত করেছেন খিলক্ষেত থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোবারক হোসেন দেওয়ান। তার আকস্মিক মৃত্যুতে দলীয় নেতাকর্মী, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা এবং সাধারণ মানুষের অশ্রুসিক্ত ও বেদনাবিধুর উপস্থিতিতে এক শোকাকুল পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বর্ণাঢ্য ও দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা
১৯৬৮ সালের ৬ এপ্রিল ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী সোহরাব খান স্বপন ছিলেন খিলক্ষেতের রাজনীতির পরিচ্ছন্ন ও ক্লিন ইমেজের এক ব্যক্তিত্ব। ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতিতে পা রাখা এই নেতা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৫ সালে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এম.কম. ডিগ্রি অর্জন করেন।
প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি:
১৯৮৮ সালে ক্যান্টনমেন্ট থানা ৭৫ নং ওয়ার্ড ইউনিট কমিটির সভাপতি
১৯৯২ সালে তৎকালীন ৭৫ নং (বর্তমান ১৭ নং) ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি
২০০২ সালে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থানা যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক
২০০৬ সালে খিলক্ষেত থানা যুবদলের আহ্বায়ক ও ২০১১ সালে সভাপতি
পরবর্তীতে খিলক্ষেত থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সর্বশেষ সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন।
গভীর রাজনৈতিক আদর্শ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তিনি ৪ বার কারাবরণ করেন এবং তার বিরুদ্ধে ৪৭টিরও বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
ব্যবসায়িক ও সামাজিক পরিচয়
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা। তিনি বি এম ট্রাভেলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান, মেসার্স ড্রীম ইন্টারন্যাশনালের মালিক, আবাসন বৃহত্তর কুমিল্লা লি.-এর সহ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ড্রীম টেইলার্স অ্যান্ড ফেব্রিক্সের সত্ত্বাধিকারী ছিলেন।
এছাড়া তিনি খিলক্ষেত বাজার মালিক সমিতির সভাপতি, কুর্মিটোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি, নবযাত্রা সমাজ কল্যাণ সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, খিলক্ষেত ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ও সামাজিক কবরস্থানের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং খিলক্ষেত বটতলা জামে মসজিদসহ একাধিক ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে নিবেদিত ছিলেন।
সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের শোক প্রকাশ
মরহুমের প্রয়াণে খিলক্ষেতের বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটির সভাপতি জাহিদ ইকবাল ও সাধারণ সম্পাদক সৈকত সরকার এক যৌথ শোকবার্তায় বলেন, "সোহরাব খান স্বপন ছিলেন খিলক্ষেতের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব। তার পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, সৌজন্যবোধ ও আন্তরিকতা খিলক্ষেতবাসীর মনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার প্রয়াণ খিলক্ষেতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।"
খিলক্ষেত প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাবিব সরকার স্বাধীন স্মৃতিচারণ করে বলেন, "তিনি দল-মত নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন। দেখা হলেই আপনজনের মতো 'দেশি ভাই, কেমন আছো?' বলে কুশল বিনিময় করতেন। তার এই উদার ও মিষ্টি মনের ভালোবাসা আমরা কখনো ভুলব না। রাজনীতিতে এমন সৎ, নিষ্ঠাবান ও বুদ্ধিমান মানুষকে হারিয়ে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।"
মরহুমের শেষ বিদায়ে নেমে আসে হাজার হাজার মানুষের ঢল। এলাকাবাসী ও সহযোদ্ধারা অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকে শেষ বিদায় জানান এবং পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালার দরবারে তার রুহের মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করেন।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।