ভুয়া প্রেস কার্ড বানিয়ে সরকারি দপ্তরে চাঁদাবাজি: কথিত সাংবাদিক চক্রকে গ্রেপ্তারের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রথম সারির জাতীয় দৈনিকগুলোর লোগো ও নাম ব্যবহার করে ভুয়া প্রেস আইডি ও ভিজিটিং কার্ড বানিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ব্ল্যাকমেলিং ও চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। সাংবাদিকতার মহান পেশাকে সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখানো এই কথিত সংবাদকর্মী চক্রকে দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানিয়েছেন পেশাদার সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
কাল্পনিক প্রতিবেদনের ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কথিত ‘হাবিব’ নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে গড়ে ওঠা চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ প্রতিদিন, প্রথম আলো, যুগান্তরসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী গণমাধ্যমের পরিচয়পত্র জাল করে সরকারি অফিসে অফিসে অনধিকার প্রবেশ করছে। সেখানে গিয়ে নানা ভিত্তিহীন অভিযোগ ও কাল্পনিক অনিয়মের অজুহাত তোলে তারা। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ‘অনুসন্ধানী প্রতিবেদন’ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করা এবং মোটা অঙ্কের অনৈতিক সুবিধা হাতিয়ে নেওয়াই চক্রটির প্রধান কৌশল।
খিলক্ষেত প্রেস ক্লাবের নাম ভাঙানোর অপচেষ্টা
সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে একইভাবে ব্ল্যাকমেল করে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা চালায় চক্রটি। কর্মকর্তাদের সন্দেহ হলে এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে কথিত হাবিব বাঁচার পথ হিসেবে নিজেকে ‘খিলক্ষেত প্রেস ক্লাব’-এর সদস্য বলে দাবি করে। বিষয়টি নজরে আসতেই তাৎক্ষণিকভাবে তীব্র প্রতিবাদ জানান খিলক্ষেত প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বাধীন। তিনি সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, ক্লাবের সঙ্গে ওই প্রতারক বা তার সহযোগীদের কোনো ধরনের দূরতম সম্পর্কও নেই।
এক আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে খিলক্ষেত প্রেসক্লাবের সভাপতি বলেন, “হাবিব নামের এই ব্যক্তি বা তার চক্রের কেউ কখনোই খিলক্ষেত প্রেসক্লাবের সদস্য ছিল না এবং এখনো নেই। মূলধারার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের নাম ভাঙিয়ে সরকারি কর্মচারীদের ব্ল্যাকমেইল করা স্পষ্ট ফৌজদারি অপরাধ। সাংবাদিকতাকে ঢাল বানিয়ে যারা এই অপকর্ম করছে, তারা মূলত সমাজের শত্রু।” কোনো প্রতারকের পাতা ফাঁদে পা না দিয়ে সন্দেহভাজনদের পরিচয়পত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করা এবং প্রয়োজনে সাথে সাথে পুলিশে সোপর্দ করার পরামর্শ দেন তিনি।
হলুদ সাংবাদিকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তার সংকট (বিশেষ বিশ্লেষণ)
সমাজবিজ্ঞানী ও গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ায় কম্পিউটার প্রিন্টারে ভুয়া কার্ড বানিয়ে প্রতারণা করার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। সরকারি দপ্তরের অনেক কর্মকর্তা তথাকথিত মানহানির ভয়ে কিংবা আইনি জটিলতা এড়াতে আপস করে ফেলেন—আর এই দুর্বলতার মনস্তত্ত্বকেই কাজে লাগায় প্রতারক চক্রগুলো। এতে করে একদিকে যেমন প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকরা প্রশ্নের মুখে পড়েন, তেমনি ব্যাহত হয় সরকারি কাজের পরিবেশ। এই ধরণের অপতৎপরতা রুখতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ডিজিটাল পরিচয়পত্র যাচাই ব্যবস্থা চালু এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি অপরিহার্য।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।