দক্ষিণখানে প্রবাসীর মেয়েকে দুইবার অপহরণ ও সোনা-টাকা লুট বাবা-ছেলের তাণ্ডবে তোলপাড়

কাজল আক্তার:
রাজধানীর দক্ষিণখান থানাধীন ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাওলা জমিদার বাড়ি সংলগ্ন রোডের ‘স্বপ্ননীড়’ ভবনে ঘটে চলেছে এক ত্রাসের রাজত্ব। স্থানীয় গ্রিল দোকানদার রাসেল ওরফে মিন্টু এবং তার বখাটে, মাদকাসক্ত ছেলে তামিমের (১৭) অসামাজিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চোরাই পণ্যের লেনদেন এবং হানিট্র্যাপের মাধ্যমে মানুষকে জিম্মি করার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে এই বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে।
প্রবাসীর পরিবারে ভাঙন ও মালামালসহ অপহরণ
সৌদি প্রবাসী আলমগীর হোসেনের বড় মেয়ে কাওলা দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাইমুনা আক্তারকে দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত করে আসছিল তামিম। কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বিষাক্ত কেমিক্যাল প্রয়োগ করে মেয়েটিকে অপহরণ করে তামিম ও তার চক্র। ১৫ দিন পর পুলিশের সহযোগিতায় মেয়েকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও আত্মসম্মান ও নিরাপত্তার ভয়ে বাসা বদলের সিদ্ধান্ত নেয় পরিবারটি।
গত ২৬ জুন বেলা আনুমানিক ২:০০টার দিকে পরিবারটি যখন বাসা বদল ও মালামাল শিফট করছিল, তখন খালি বাসার সুযোগ কাজে লাগায় অপরাধীরা। রাসেল মিন্টুর স্ত্রী ও বোন ওই প্রবাসীর বাসায় বুয়ার কাজ করার সুযোগে এবং মিন্টুর তালই ওই ভবনের দারোয়ান হওয়ার সুবাদে ঘরের ভেতরের খবর পেয়ে যায় অপরাধীরা। বাসা ফাঁকা থাকার সুযোগে তামিম তার বাবা-মা, ফুফু ও সঙ্গীদের সহায়তায় প্রবাসীর মেয়েকে দ্বিতীয়বার জোরপূর্বক অপহরণ করে বরিশালের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১০ লাখ টাকা লুট করে নেয়। বর্তমানে ভুক্তভোগী বাবার কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে হুমকি-ধমকি দেওয়া অব্যাহত রাখা হয়েছে।
অপরাধের আমলনামা ও পুরনো ইতিহাস
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগেও কাওলা জামতলা এলাকার বাদল নামে এক ব্যক্তির মেয়েকে একইভাবে অপহরণ করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয় এই চক্রটি। সেই ভুক্তভোগী পরিবারটি প্রাণভয়ে এলাকা ছেড়ে বর্তমানে নরসিংদীতে বসবাস করছে।
এছাড়া মিন্টু তার গ্রিল ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চোরাই যন্ত্রাংশ ও অবৈধ মালামাল কেনাবেচার সাথে জড়িত। উঁচুতলার প্রভাব ও রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তারা এলাকায় নিয়মিত এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইতিপূর্বে দক্ষিণখান থানায় রাসেল মিন্টু ও তার ছেলে তামিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্ম ও চোরাই কারবার নিয়ে একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হলেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয়তার কারণেই উৎপাত বাবা ও তার উৎপাত ছেলের তাণ্ডব দিনে দিনে আরও বেপরোয়া রূপ নিয়েছে।
নিজের ঘাম ঝরানো উপার্জনে দেশের অর্থনীতি সচল রাখা প্রবাসী আলমগীর হোসেন আজ নিজ দেশেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ভুক্তভোগী প্রবাসী বাবা সুবিচারের আশায় দক্ষিণখান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এবং দ্রুত মেয়েকে উদ্ধারসহ অপরাধী চক্রটির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।