মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
অপরাধ উন্মোচন
nationwide

জ্বালানি সংকটে দেশে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং, তেল ও কয়লায় ভরসার পরামর্শ।

২-০৯-২০২৬
4
জ্বালানি সংকটে দেশে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং, তেল ও কয়লায় ভরসার পরামর্শ।
গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় শিল্পকারখানা ও জনজীবনে দেখা দিয়েছে তীব্র লোডশেডিং।

টানা ৯ বছর ধরে অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন কমে আসা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চড়া মূল্যের কারণে চরম সংকটে পড়েছে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি যেমন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে, তেমনি দামও বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। এই মুহূর্তে গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বড় একটি অংশ বন্ধ রাখতে হচ্ছে, যার ফলে দৈনিক প্রায় সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এর ওপর বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে সরকারের ৪৪ হাজার কোটি টাকার বকেয়া বিল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

পেট্রোবাংলার আমদানি ঘাটতি ও এলএনজি সংকট

সংকটের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আমলে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান ও উত্তোলনে জোর না দিয়ে আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছিল। পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের প্রথম ৮ মাসে ৭১টি এলএনজি কার্গো আনা হলেও এবার এসেছে ৬৮টি। বিশেষ করে জুলাই ও আগস্টে যেখানে ২১টি কার্গো আসার কথা ছিল, সেখানে এসেছে মাত্র ১৫টি। কাতার এনার্জির উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটায় খোলাবাজারে এলএনজির দাম প্রতি ইউনিট ২২ থেকে ২৬ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে, যা কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

বিকল্প উৎস: তেল ও কয়লাভিত্তিক উৎপাদনে জোর

এমন পরিস্থিতিতে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের চড়া গরম সামলাতে বিকল্প পরিকল্পনার তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। জ্বালানিবিশেষজ্ঞ ম তামিম জানান, এলএনজির দাম অতিরিক্ত হওয়ায় তা পর্যাপ্ত কেনা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই অগ্রাধিকার বুঝে সরবরাহ ঠিক রেখে তেল ও কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, তেলচালিত কেন্দ্রগুলো থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং এর জন্য সরকার ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।

শুল্ক ছাড় ও ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব

বর্তমানে ফার্নেস তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয় ২১ টাকা ৫১ পয়সা, যা এই মুহূর্তের চড়া দামের এলএনজি (২৩ টাকা থেকে ২৬ টাকা) থেকে তুলনামূলক কম। তবে ফার্নেস তেল আমদানিতে সাড়ে ২৬ শতাংশ শুল্ক-কর রয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিক ও ব্যবসায়ীদের মতে, এনবিআর যদি আপাতত তেলের ওপর থেকে এই শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয়, তবে ইউনিটপ্রতি উৎপাদন খরচ ১৭ টাকায় নেমে আসবে। তেলচালিত কেন্দ্রগুলো ৮০ শতাংশ এবং কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে আরও ১ হাজার মেগাওয়াট বাড়তি উৎপাদন করা গেলে লোডশেডিং সহনীয় মাত্রায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।

টাস্কফোর্স গঠন ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল

বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী নভেম্বর থেকে শীত শুরু হলে বিদ্যুতের চাহিদা কমবে, যা সরকারকে চার মাসের একটি সাময়িক স্বস্তি দেবে। তবে আগামী বছরের গ্রীষ্মের চাপ সামলাতে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। মধ্যমেয়াদে সৌরবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে বড় ধরনের বিনিয়োগ ছাড়া এই সংকট থেকে স্থায়ী মুক্তি মিলবে না বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মোট ০ প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।

প্রকাশক
নিজস্ব প্রতিবেদক
অপরাধ উন্মোচন
নিউজলেটার

দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান

যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য ()

মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।