বাঞ্ছারামপুরের হোগলাকান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়কে সাপের উপদ্রব প্রাণহানি ও আতঙ্কে এলাকাবাসী

আনোয়ার হোসেন, বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া):
ডিজিটাল বাংলাদেশের বুকে যেন এক টুকরো মৃত্যুফাঁদ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার হোগলাকান্দি গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সংলগ্ন সরকারি বাড়ি "বাহর বাড়ি" যাওয়ার রাস্তাটি এখন হাজার হাজার মানুষের কাছে আতঙ্কের আরেক নাম।
মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে সাপের কামড়ে ১ জনের মৃত্যু এবং আরও ১ জন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় পুরো গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে চরম শোক ও ভয়।
জমা পানি আর আবর্জনায় সাপের অভয়ারণ্য
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদ্য সংস্কার করা সড়কের দুই পাশেই উপচে পড়া ময়লা-আবর্জনা। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে রাস্তায় সবসময় পানি জমে থাকে। সেই বদ্ধ পানি আর আবর্জনার স্তূপই এখন বিষধর সাপের নিরাপদ প্রজননক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তা মেরামতের সময় ড্রেনের কথা ভাবা হয়নি। ফলে সংস্কারের সুফল মিলছে না; উল্টো পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে।
"দিনের বেলাতেই ভয় লাগে, আর রাতে তো এই রাস্তা দিয়ে কেউ হাঁটতেই পারে না। মনে হয় জঙ্গলের ভিতর দিয়ে হাঁটছি। এটা কোনো রাস্তা না, এটা সাপের বাড়ি" — ক্ষোভের সাথে বলেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিক মিয়া।
পরপর দুর্ঘটনায় শোকস্তব্ধ গ্রাম
গ্রামবাসী জানান, কিছুদিন আগেই এই সড়কে সাপের কামড়ে এক পথচারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত সপ্তাহে আবারও একইভাবে সাপের কামড়ে গুরুতর আহত হন আরেকজন।
সবচেয়ে বড় শঙ্কার বিষয় হলো, প্রতিদিন শত শত কোমলমতি শিশু এই মৃত্যুফাঁদ পেরিয়েই হোগলাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায়। যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কায় অভিভাবকরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা
এই ভয়াল পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হোগলাকান্দির সর্বস্তরের জনগণ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বিশেষভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত জাতীয় নেতৃবৃন্দ, বাঞ্ছারামপুরের প্রকৌশলী ফজলে রাব্বি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।
এলাকাবাসীর ৩ দফা জরুরি দাবি:
১. অবিলম্বে বর্জ্য অপসারণ: বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও রাস্তার চারপাশের জমা পানি ও আবর্জনা জরুরি ভিত্তিতে পরিষ্কার করতে হবে।
২. ড্রেন সংস্কার ও প্রবাহ সচলকরণ: অচল ড্রেন পরিষ্কার করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সাপের বাসস্থান ধ্বংস হয়।
৩. আলোকায়ন ব্যবস্থা: রাতের বেলায় যাতায়াত নিরাপদ করতে সড়কে দ্রুত স্ট্রিট লাইট স্থাপন করতে হবে।
গ্রামবাসীর আকুল আকুতি, প্রশাসন যেন এই প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে। কোমলমতি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
আর একটি প্রাণহানির অপেক্ষা না করে হোগলাকান্দির এই "মৃত্যুফাঁদ"-কে নিরাপদ সড়কে রূপান্তর করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।