ইরানে মার্কিন হামলা স্থগিত ট্রাম্পকে জেনারেল ড্যান কেইনের গোলাবারুদ সংকটের সতর্কতা
Seven lakh workers set to benefit.

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানে টানা ১৩ রাত ধরে অব্যাহত বোমাবর্ষণের পর হঠাৎ করেই অভিযান স্থগিতে বাধ্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সংঘাত আরও বাড়িয়ে সামরিক অভিযান জোরদারের প্রস্তাব বিবেচনা করছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব গোলাবারুদের তীব্র সংকট এবং আঞ্চলিকভাবে যুদ্ধের ব্যাপক নেতিবাচক পরিণতি হতে পারে—এমন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। পেন্টাগনের প্রধান উদ্বেগ: 'আমেরিকান ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি' বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে স্পষ্ট জানান যে—মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রেসিডেন্টের যেকোনো কৌশলগত নির্দেশ সফলভাবে বাস্তবায়নে সক্ষম। কিন্তু ইরানের ভূখণ্ডে বা পরিকাঠামোয় বড় ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অস্ত্রাগারে বিপজ্জনক টান পড়বে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং লোহিত সাগরে হুতিদের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র (যেমন- প্যাট্রিয়ট) ব্যবহারের ফলে পেন্টাগনের নিজস্ব মজুত তলানিতে ঠেকেছে। এছাড়া হামলা বাড়ালে ইরানের সাধারণ জনগণের ব্যাপক প্রাণহানি ঘটতে পারে। সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ও যুদ্ধাপরাধের বিতর্ক ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের রাস্তাঘাট, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের যে হুমকি দিয়েছিলেন, তা বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বৈঠকে উপস্থিত উপদেষ্টারা ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের হামলায় হাজার হাজার নিরপরাধ ইরানি প্রাণ হারাবে এবং খাবার ও বিদ্যুৎহীন চরম মানবিক সংকটে পড়বে। এছাড়া ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস হওয়া, পানি শোধন কেন্দ্রে আঘাত এবং বড় ধরনের শরণার্থী সংকটের মতো ভয়াবহ ২য় ও ৩য় পর্যায়ের (Second & Third Order) পরিণতির কথাও তুলে ধরা হয়। "কূটনীতিই পছন্দ, তবে সব পথ খোলা"—হোয়াইট হাউস হামলা সাময়িক স্থগিতে নিয়ে সামরিক বা রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হলেও হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেং জানিয়েছেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব সময়ই একটি কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে। তবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে বা আমাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসী আচরণ বজায় রাখে, তবে সামরিক পদক্ষেপের পথও উন্মুক্ত রাখা হবে।” বর্তমানে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন প্রতিনিধি এবং পেন্টাগনের শীর্ষকর্তারা সস্তা ও দ্রুতগতির প্রযুক্তি নির্ভর বিকল্প অস্ত্রের নতুন মজুত গড়ে তোলার প্রক্রিয়া দ্রুত করার কথা স্বীকার করেছেন।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।