মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
অপরাধ উন্মোচন
nationwide

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মান মূল্যায়নে ডাকসুর ওয়েবসাইট চালু, প্রশাসনের দ্বিমত।

১১-০৯-২০২৬১৪
4
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মান মূল্যায়নে ডাকসুর ওয়েবসাইট চালু, প্রশাসনের দ্বিমত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভবন; যেখানে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শিক্ষকদের মান মূল্যায়নে ‘ডিইউ ইভাল্যুয়েশন’ ওয়েবসাইটটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

সরাসরি মূল্যায়নের সুযোগ নিয়ে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। এ লক্ষ্যে ‘ডিইউ ইভাল্যুয়েশন’ নামে একটি স্বতন্ত্র ওয়েবসাইট আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। তবে ডাকসুর এই উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি তুলেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাদের মতে, এটি ডাকসুর একতিয়ারভুক্ত কাজ নয় এবং এ ধরনের অনানুষ্ঠানিক রেটিং ক্যাম্পাসে নতুন বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে।

যেসব মানদণ্ডে শিক্ষকদের রেটিং দেবেন শিক্ষার্থীরা

গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ডাকসু ভবনে ওয়েবসাইটটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়ার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই প্ল্যাটফর্মে কোর্সের কাঠামো, শিক্ষাদান পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ, পরীক্ষা পদ্ধতি, পেশাদারত্ব ও সার্বিক সন্তুষ্টির ওপর ভিত্তি করে শিক্ষকের রেটিং (১ থেকে ৫) দেওয়া যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ই-মেইলে প্রাপ্ত কোড ব্যবহার করে কেবল নিজেদের বিভাগের শিক্ষকদেরই মূল্যায়ন করতে পারবেন। ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলক ধাপে সাত হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী এতে অংশ নিয়েছেন।

ডাকসুর যুক্তি ও ভিপির বক্তব্য

ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম সংবাদ সম্মেলনে জানান, শিক্ষকদের সঙ্গে সংঘাত তৈরি নয়, বরং শিক্ষার মানোন্নয়ন ও গঠনমূলক ফিডব্যাক ব্যবস্থাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। তিনি অভিযোগ করে বলেন, "ডাকসুর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আমরা বহুবার আলোচনা করেছি। কিন্তু এক বছরেও প্রশাসন এটি চালু করতে ব্যর্থ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের ইশতেহার বাস্তবায়নে বাধ্য হয়ে এই ওয়েবসাইট নির্মাণ করেছে।"

প্রশাসনের দ্বিমত ও অনধিকার চর্চার আশঙ্কা

ডাকসুর এই উদ্যোগের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ প্রশাসন ও সাধারণ শিক্ষকরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, শিক্ষার্থীদের মতামত দেওয়ার অধিকার থাকলেও অফিশিয়াল মূল্যায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। টিচিং ইভাল্যুয়েশনের জন্য একটি নীতিমালা ইতিমধ্যেই অনুমোদিত হয়েছে এবং এটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

অন্যদিকে, সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী প্রকাশ্যে এভাবে ওয়েবসাইট তৈরিকে অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেন। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. খোরশেদ আলম এটিকে ডাকসুর ‘অনধিকার চর্চা’ উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের পাবলিক রেটিং ক্যাম্পাসের পরিবেশ বিনষ্ট করতে পারে এবং পরবর্তীতে তা ‘মব হেট্রেড’ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি রাখে।

ডাকসু জানিয়েছে, আগামী তিন মাস এই প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত ফিডব্যাকের ভিত্তিতে তারা একটি সমন্বিত প্রতিবেদন তৈরি করবে, যা পরবর্তীতে ঢাবি প্রশাসনের নিকট হস্তান্তর করা হবে।

— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মোট ০ প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।

প্রকাশক
নিজস্ব প্রতিবেদক
অপরাধ উন্মোচন
নিউজলেটার

দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান

যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য ()

মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।