রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী মারধর প্রক্টর অফিস ও সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে তাণ্ডব
Dollar crosses Tk 123 in the curb market.

প্রতিনিধি:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রক্টরিয়ালের কার্যালয় এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে ঢুকে তিন শিক্ষার্থীকে কাঠ, বাঁশ, বেলচা ও লাঠিসোঁটা দিয়ে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ উঠেছে রাকসু প্রতিনিধি ও শাখা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। আজ সোমবার দুপুর ও বিকেলে দফায় দফায় এই মারধরের ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত শিক্ষার্থীরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্র আনাস ও হাসিব এবং সংস্কৃত বিভাগের মাহমুদুল হাসান। গুরুতর অবস্থায় মাহমুদুল হাসানকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও তাঁকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে এলাপাতাড়ি লাথি মারার অভিযোগ উঠে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে।
প্রেম প্রত্যাখ্যান ও ভয়ভীতি দেখানো থেকে ঘটনার সূত্রপাত
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সংস্কৃত বিভাগের এক ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়াকে কেন্দ্র করে একই বিভাগের মহসিন আলম নামের এক ছাত্রের বিরুদ্ধে প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। ঘটনার মীমাংসায় গতকাল রোববার প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বৈঠকে বসলে মহসিনের পক্ষে উপস্থিত শিক্ষার্থী আনাস, হাসিব ও মাহমুদুল প্রক্টরের সাথে উচ্চবাচ্য করেন। আজ সোমবার দুপুরে প্রক্টরিয়ালের কার্যালয়ে বিষয়টি নিয়ে পুনরায় বৈঠক বসলে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও অন্য নেতারা আনাসকে 'নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী' হিসেবে অভিযুক্ত করেন এবং তাঁর ফোন ঘেঁটে কয়েকজন ছাত্রলীগের নেতার সঙ্গে ছবি দেখিয়ে মারধর শুরু করেন।
প্রক্টর অফিস থেকে গ্রন্থাগার: রড-বেলচা হাতে তাণ্ডব
প্রক্টর অফিস থেকে সাময়িক মীমাংসার পর বেলা তিনটার দিকে রাকসু ভবনে আম্মারসহ অন্যদের সাথে আনাস গংদের হাতাহাতি হয়, এতে রাকসুর তথ্য সম্পাদক বি এম নাজমুস সাকিব আহত হন। এরপর আনাসরা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে গিয়ে আশ্রয় নিলে রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা রড, লাঠি ও বেলচা নিয়ে সেখানে ঢুকে পড়েন। সিসিটিভি ও একাধিক ভিডিও ফুটেজে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) এস এম সালমান সাব্বিরসহ শিবির সমর্থিত রাকসু প্রতিনিধিদের বেধড়ক লাঠিপেটা করতে দেখা যায়। এ সময় পড়াশোনা অবস্থায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা বাধা দিতে গেলে তাদেরকেও মারধর করা হয়। পরে পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডি এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
"লাইব্রেরিতে ঢুকে ২০০টির বেশি আঘাত করা হয়েছে"—আহত শিক্ষার্থী
হামলার শিকার আনাস দাবি করেন, “আজ প্রক্টর অফিসে আমাকে ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে আম্মার ও তার লোকজন মারধর করে। পরে আমরা লাইব্রেরিতে গিয়ে আশ্রয় নিলে তারা দলবেঁধে লাইব্রেরির ভেতর ঢুকে আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমাকে অন্তত ২০০টির বেশি আঘাত করা হয়েছে।” অন্যদিকে মারধরে অংশ নেওয়া রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার নিজের আত্মপক্ষ সমর্থনে বলেন, “প্রশাসন দুই বছর ধরে প্রকাশ্য ছাত্রলীগের ওপর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। প্রক্টর মাধ্যমে আমরা তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করলেও প্রশাসন ভবনের সামনে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তারা উল্টো আমাদের ওপর হামলা করে। রাকসু প্রতিনিধিদের ওপর হামলা হলে তার দায় কে নেবে?”
যৌথ তদন্তের আশ্বাস, গ্রেপ্তার ২
ঘটনার সময় ভিডিও ফুটেজে শিবিরের একাধিক পদধারী নেতাকে হামলায় দেখা গেলেও শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সরাসরি সম্পৃক্ততার দায় অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী ব্যক্তিগত বিরোধকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে শিক্ষাঙ্গনের পবিত্রতা নষ্ট করার কঠোর বিচার দাবি করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলীম ঘটনাটিকে 'অত্যন্ত নিন্দনীয়' অ্যাখ্যা দিয়ে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠনের আশ্বাস দিয়েছেন। প্রক্টর মাহবুবর রহমান জানান, ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পুলিশ আনাস ও হাসান নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।