উত্তরায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ডিএনসিসি ম্যাজিস্ট্রেটকে হেনস্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
রাজধানীর উত্তরায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানের সময় জরিমানা কমানোর কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ঘিরে ধরে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছেন স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা। আজ বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) দুপুরে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের পাকার মাথা এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। পরে উত্তরা পশ্চিম থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। অভিযুক্ত ওই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নাম অতীশ দর্শী চাকমা।
ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ও উত্তেজনার সূত্রপাত
ব্যবসায়ীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, দুপুরে জসিমউদ্দিন সড়কের পাকার মাথা এলাকায় ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিয়ে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতীশ দর্শী চাকমা। অভিযান চলাকালে জরিমানা কমিয়ে দেওয়ার কথা বলে ম্যাজিস্ট্রেটের এক সহযোগী এক দোকানির কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা নেন বলে কয়েকজন ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী অভিযোগ তোলেন। পরবর্তীতে ওই টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ঘিরে ধরে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন।
খবর পেয়ে উত্তরা পশ্চিম থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নিরাপদে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতীশ দর্শী চাকমার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি এবং খুদেবার্তা পাঠালেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও ডিএনসিসি প্রশাসনের বক্তব্য
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর জানান, ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানে এসে ফুটপাতে দোকান থাকার অভিযোগে কয়েকজনকে জরিমানা করেন। জরিমানার রসিদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে দোকানিদের সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা ও উত্তেজনা তৈরি হলে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান জানান, তিনি বিষয়টি জেনেছেন এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, অতীশ দর্শী চাকমা ডিএনসিসির নিয়মিত ম্যাজিস্ট্রেট নন। বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা ও ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানের জন্য তিন মাসের চুক্তিতে নিয়োজিত ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেটের মধ্যে তিনি একজন।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।