উত্তরা ও দক্ষিণখানের ভুয়া নামজারি ও ভূমিদস্যু হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে এনএসআই ও ডিজিএফআই-এর হস্তক্ষেপ দাবি

আরিয়ান সুমন:
রাজধানীর উত্তরা, দক্ষিণখান ও উত্তরখান সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ঘিরে একচ্ছত্র জালিয়াতি ও ভূঁইফোড় সাম্রাজ্য গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে দলিল লেখক হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকালীন হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি হওয়া সত্ত্বেও তিনি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো ও সিন্ডিকেট পরিচালনা করায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এই পরিস্থিতিতে উত্তরার বিস্তীর্ণ এলাকার সাধারণ মানুষ ও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষায় এনএসআই (NSI) এবং ডিজিএফআই (DGFI)-সহ শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থার জরুরি ও নিবিড় নজরদারি চেয়েছে এলাকাবাসী।
দলিল লেখকের আড়ালে ভূমিদস্যুতার সাম্রাজ্য
অনুসন্ধানে প্রকাশ, উত্তরা, দক্ষিণখান ও উত্তরখান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সাধারণ দলিল লেখক হিসেবে কাজ শুরু করে হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া গড়ে তোলেন বিশাল এক জালিয়াতি চক্র। ভুয়া পিটদলিল (Chain Deeds) তৈরি করে কোটি কোটি টাকা মূল্যের জমি গ্রাস করা তাঁর প্রধান কৌশলে পরিণত হয়। অভিযোগ রয়েছে, মারিয়াম প্লাজা, ভূঁইয়া মার্কেট ও আশিয়ান সিটির আশপাশের মূল্যবান খাস জমি এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা জোরপূর্বক দখল করে নেয় এ চক্র।
জুলাই হত্যা মামলার আসামি ও রাজনৈতিক যোগসাজশ
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় ঢাকা উত্তর সিটির ৪৯ নং ওয়ার্ডের বিতর্কিত সাবেক কাউন্সিলর আনিছুর রহমান নাঈমের প্রধান আর্থিক জোগানদাতা হিসেবে কাজ করেছেন হুমায়ুন। জুলাই হত্যাকাণ্ডে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় হুমায়ুন ও তাঁর ছেলে দুজনই এজাহারনামীয় আসামি। সাবেক কাউন্সিলরের ছত্রছায়ায় কাওলা, যমুনা, বসুন্ধরা, আশিয়ান ও বনরূপা এলাকায় একক রাজত্ব কায়েম করেন তিনি।
সিসিটিভি নেটওয়ার্ক ও 'মাসোহারা'র ভিডিও ফাঁস
মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও কাওলা এলাকায় নিজস্ব সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার জাল বিছিয়ে নজরদারি চালাচ্ছেন হুমায়ুন। পুলিশি অভিযান কিংবা অপরিচিত ব্যক্তির গতিবিধি সম্পর্কে আগেভাগেই তথ্য পেয়ে যান তিনি। অভিযোগ রয়েছে, নিজেকে আড়াল করতে এবং অপপ্রচার চালাতে কথিত সংবাদকর্মী ও দালালদের পেছনে নিয়মিত 'মাসোহারা' বা অর্থ ঢালছেন তিনি। সম্প্রতি তাঁদের অবৈধ আর্থিক লেনদেনের একাধিক ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ফাঁস হয়েছে।
রাজস্ব ফাঁকি, ভুয়া নামজারি ও খাস জমি গ্রাস
সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ড অফিসের অসাধু চক্র ও নিজস্ব উমেদারদের সহায়তায় ভুয়া নামজারি (Mutation) করিয়ে কোটি কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এ চক্রের বিরুদ্ধে। এছাড়া রেজিস্ট্রেশন জালিয়াতি ও খাস জমি স্থায়ী দখলের মাধ্যমে রাষ্ট্রের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
জুলাই হত্যা মামলার আসামির প্রকাশ্যে বিচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগীরা জানান, এমন গুরুতর মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার না করা শহীদের রক্ত ও আত্মত্যাগের সাথে চরম অবহেলার সামিল। হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া ও তাঁর চক্রকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।