সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
অপরাধ উন্মোচন
duniti

মুন্সিগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার রমজান খানের দুর্নীতি, বদলি-বাণিজ্য ও শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড়

২-১১-২০২৬১০
4
মুন্সিগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার রমজান খানের দুর্নীতি, বদলি-বাণিজ্য ও শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড়
"জেলা রেজিস্ট্রার অফিস এবং দুর্নীতির প্রতীকী ছবি।"

বিশেষ প্রতিবেদক, অপরাধ উন্মোচন:

“সরকার আসে, সরকার যায়, কিন্তু আমলারা বহাল তবিয়তে থেকে যায়”—বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে এই প্রবাদটি যেন এক ধ্রুব সত্য। ক্ষমতার পালাবদল হলেও সুবিধাবাদী আমলারা সব সময় নতুন ক্ষমতার কেন্দ্রে নিজেদের জায়গা ঠিক করে নেন। সুযোগসন্ধানী আমলাতন্ত্রের ঠিক তেমনই এক নিখুঁত দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার মো. রমজান খান।

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ঘনিষ্ঠতা ও ছাত্রজীবনের পটভূমি

পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি ছিলেন তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহচর। ক্ষমতার দাপট কতটা প্রবল হলে একজন থানা পর্যায়ের কর্মকর্তা (সাব-রেজিস্ট্রার) সরাসরি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে ডিনারে অংশ নিতে পারেন, তা সহজেই অনুমেয়। প্রশাসনের স্তরবিন্যাসে একজন সাব-রেজিস্ট্রার এবং একজন প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার দূরত্ব আকাশ-পাতাল হলেও রমজান খানের ক্ষেত্রে অদৃশ্য রাজনৈতিক সংযোগের কারণে সেই দূরত্ব ঘুচে গিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর সাথে একই টেবিলে বসে নৈশভোজ করা প্রমাণ করে তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের অন্দরমহলে তার শেকড় কতদূর বিস্তৃত ছিল।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নির্বাচনী এলাকা আখাউড়া উপজেলায় বাড়ি হওয়ার সুবাদে তিনি বিগত ১৫ বছর দেশের শীর্ষস্থানীয় অফিসগুলোতে পোস্টিং নিয়ে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের ক্যাডার হিসেবে জেল পুলিশে চাকরি করার সময় বন্দিদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর তিনি সাব-রেজিস্ট্রার পদে যোগদান করেন এবং এরপর থেকেই তার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। নরসিংদী সদর, কালামপুর, ফতুল্লা, গুলশান, নেত্রকোনা সদর ও সিরাজদিখানে দায়িত্ব পালনকালে তিনি দুই হাতে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন।

ভোল পাল্টে নতুন রাজনৈতিক আশ্রয়ে বদলি-বাণিজ্য

৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাতারাতি খোলস পাল্টে তিনি বিএনপি নেতা বনে যান এবং তদবির বাণিজ্যের মাধ্যমে তদবির করে মুন্সিগঞ্জ জেলার জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে পদোন্নতি ও পদায়ন নেন। আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহার সাথে সিন্ডিকেট গড়ে তিনি গুলশানের গ্লোরিয়ার জিন্স ও বিভিন্ন স্থানে বদলি বাণিজ্যের হাট বসাতেন। চট্টগ্রাম সদর, গুলশান, শ্যামপুর, কেরানীগঞ্জ, রূপগঞ্জ, গাজীপুরসহ দেড় শতাধিক সাব-রেজিস্ট্রার বদলি করে তিনি শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। জলঢাকার সাব-রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান মোল্লার কাছ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

শত কোটি টাকার সম্পদ ও বিদেশে অর্থ পাচার

রমজান খান দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ তার শ্যালকের মাধ্যমে লন্ডন, মালয়েশিয়া ও দুবাইয়ে পাচার করেছেন। সেখানে তার অর্ধ ডজন বাড়ি রয়েছে। এছাড়া গুলশানে নামে-বেনামে ৩০টি ফ্ল্যাট ও প্লট বুকিং, নিকেতনে সপরিবারে বসবাস এবং আখাউড়ায় শত শত একর জমির মালিক তিনি। তার রয়েছে প্রায় ৩০ জন ব্যক্তিগত দালালের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যারা দেশের বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জোরপূর্বক দলিল করতে বাধ্য করে। রমজান খান এখন তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে বদলি হয়ে আসার চেষ্টা করছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে, যা নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ‘রমজান আতঙ্ক’ বিরাজ করছে।

— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মোট ০ প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।

প্রকাশক
নিজস্ব প্রতিবেদক
অপরাধ উন্মোচন
নিউজলেটার

দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান

যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।