সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
২৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
অপরাধ উন্মোচন
অপরাধ

সালথায় অস্ত্র তৈরির নির্দেশ দেওয়া ইউপি চেয়ারম্যান রফিকের বিতর্কিত ভিডিও ভাইরাল

২৩-০৯-২০২৬২৩০
4
সালথায় অস্ত্র তৈরির নির্দেশ দেওয়া ইউপি চেয়ারম্যান রফিকের বিতর্কিত ভিডিও ভাইরাল
"ফরিদপুরের সালথায় বিতর্কিত বক্তব্যের জেরে আলোচনায় থাকা যদুনন্দী ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক মোল্লা।"

​সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় এক প্রকাশ্য সভায় সমর্থকদের উদ্দেশে দেশীয় অস্ত্র তৈরির নির্দেশ দিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক মোল্লা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে স্পষ্ট ভাষায় বলতে শোনা গেছে, ‘অস্ত্র বানান, মার্ডার হলে আমি দেখবো’। দায়িত্বশীল এক জনপ্রতিনিধির এমন উসকানিমূলক বক্তব্যে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

​স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় অস্ত্রধারী ও ক্যাডারদের সহায়তায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন এই চেয়ারম্যান রফিক। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি রাতারাতি নিজের লেবাস ও অবস্থান পাল্টে ফেললেও তার পুরনো কর্মকাণ্ড ও দখলদারিত্বের কোনো পরিবর্তন হয়নি। এলাকায় নিজের আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে তিনি এখনও সশস্ত্র সংঘাতের মহড়া অব্যাহত রেখেছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

​সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সালথা উপজেলার উজিরপুর বাজারে স্থানীয় অনুসারী ও সমর্থকদের নিয়ে একটি সভার আয়োজন করা হয়। সেই বৈঠকেই চেয়ারম্যান রফিক মোল্লা বিরোধীদের প্রতি ইঙ্গিত করে দেশীয় অস্ত্র প্রস্তুতির নির্দেশ দেন এবং যেকোনো ধরনের রক্তপাত বা হত্যাকাণ্ডের ঘটনার দায় নিজে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ওই বক্তব্যের ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে সমালোচনার ঝড় তোলে।

​তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম দাবি করেছেন, ভিডিওটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এডিট করা হয়েছে। তিনি বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ও স্থানীয় রাজনীতিকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি প্রতিপক্ষের লোকজন তার সমর্থক এক ভ্যানচালককে মারধর করে ভ্যান আটকে রাখলে তিনি কোনো সংঘাতে না গিয়ে উল্টো আইনের আশ্রয় নেন এবং থানায় অভিযোগ করেন।

​এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি প্রশাসনের নজরে এসেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। অভিযোগ ও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করে চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

​সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ভিডিওটির সত্যতা ও পারিপার্শ্বিক ঘটনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মোট ০ প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।

প্রতিবেদক
ক্রাইম রিপোর্টার
অপরাধ বিভাগ · অপরাধ উন্মোচন
নিউজলেটার

দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান

যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।