জবিতে সংঘর্ষের পর হাসপাতালেও হামলা চিকিৎসাধীন আহতদের পিটুনি, কোতোয়ালি পুলিশের কড়া পাহারা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন কর্মসূচি ঘিরে শিক্ষার্থী সংঘাতের রক্তক্ষয়ী উত্তাপ পৌঁছেছে হাসপাতালেও। ক্যাম্পাসে আহত হয়ে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া জকসু, ছাত্রশক্তি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। এমনকি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে চিকিৎসাধীনদের মারধর করার নজিরবিহীন অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর থেকে পুরো পুরান ঢাকা ও বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোতোয়ালি থানা পুলিশ কড়া সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত ও ক্যাম্পাসে তাণ্ডব
ঘটনার নেপথ্যে জানা যায়, আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি সেমিনারে প্রবেশকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের সাথে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা–কর্মীদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও মারামারি শুরু হয়। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তন, শহীদ মিনার ও আশপাশের এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক সদস্য আহত হন। জকসুর সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিনিধি ও সমর্থক চিকিৎসার্থে নিকটস্থ ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি হন।
লাঠি-হকিস্টিক নিয়ে মিছিল ও হাসপাতালে তাণ্ডব
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি, কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা লাঠি, হকিস্টিক ও বেসবল ব্যাট উঁচিয়ে জামায়াত-শিবির বিরোধী স্লোগান দিয়ে হাসপাতালের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যান।
মিছিল থেকে কিছু ব্যক্তি হাসপাতালের ভেতরে জোরপূর্বক প্রবেশ করে জরুরি বিভাগের সামনে থাকা শিবিরের কর্মীদের ধাওয়া দেয়। একপর্যায়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপের পর হামলাকারীরা সরাসরি জরুরি বিভাগের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে পড়ে। সেখানে চিকিৎসাধীন দুজনকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং একজনকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে এনে রাজপথে পেটানো হয়। পরবর্তীতে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে হামলাকারীদের বের করে দেয়।
প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য
পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, “হাসপাতালে এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে, যাঁরা চিকিৎসাধীন ছিলেন তাঁরা অন্য স্থানে চলে গেছেন। তবে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন এড়াতে কবি নজরুল কলেজ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে পুলিশ কড়া সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”
অন্য দিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সংঘর্ষে তাদেরও একাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।