বাঞ্ছারামপুরে ক্যা. এবি তাজুল ইসলাম কলেজ এখন আইসিইউতে ১৪ শিক্ষকের বিপরীতে পরীক্ষার্থী ৫, পাস ১

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের ‘ক্যাপ্টেন এবি তাজুল ইসলাম কলেজ’-এর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয় নিয়ে এলাকায় তীব্র সমালোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। কাগজে-কলমে ১৪ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও চলতি বছর কলেজটি থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র একজন ছাত্রী। এতে কলেজটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ। এর আগের বছরও ফলাফল প্রায় একই রকম হতাশাজনক ছিল।
শোচনীয় ফলাফল ও নেপথ্যের কারণ
গত শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। ২০১৬ সালে সাবেক সংসদ সদস্য ক্যাপ্টেন এবি তাজুল ইসলাম নিজ নামে এই কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বিশাল অবকাঠামো ও ৩৫০ শতক ভূমি এবং ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন ৩ তলা ভবন থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান তলানিতে ঠেকেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কলেজটিতে পড়াশোনার পরিবেশ দিন দিন চরম অবনতির দিকে যাচ্ছে। নিয়মিত ক্লাস হয় না বললেই চলে এবং শিক্ষার্থীরা ক্লাসের পরিবর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টিকটক নিয়ে ব্যস্ত থাকে।
অধ্যক্ষের স্বীকারোক্তি: “কলেজটি এখন আইসিইউতে”
এ বিষয়ে কলেজটির অধ্যক্ষ মো. ইসমাইল জামাল অকপটে স্বীকার করে বলেন, “আমার কলেজটি রীতিমতো আইসিইউতে আছে।” তিনি জানান, চলতি বছর ৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে জান্নাতুল মীম নামের মাত্র একজন ছাত্রী জিপিএ-৩ পেয়ে পাস করেছে। ভর্তি হওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থী বিদেশ চলে যাওয়া এবং বাকিরা নিয়মিত ক্লাসে না আসায় এই বিপর্যয় ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
অধ্যক্ষ আরও জানান, পাঠদানের অনুমতিপত্র (EIIN No: 139351) বাঁচাতে ও এমপিওভুক্তির আশায় শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করে এনে পরীক্ষা দেওয়ানো হচ্ছে। কাগজে-কলমে ১৪ জন শিক্ষক থাকলেও বাস্তবে তিনি একাই কলেজটি টিকিয়ে রাখার লড়াই করছেন। সম্প্রতি কলেজটি বাঁচানোর আবেদন জানিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর কাছে দরখাস্ত দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। তবে কোরবানি ঈদে গরুর ইজারা বাণিজ্য ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
স্থানীয় ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য ভিপি নাজমুল হুদা জানিয়েছেন, কলেজের এই বেহাল দশার বিষয়টি পরিকল্পনা মন্ত্রী জোনায়েদ সাকিকে অবহিত করা হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে দ্রুত এর সমাধান আসবে।
এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল এমরান খান বলেন, “৫ জনে ১ জন পাস—এটিকে পাস বলে না। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। স্থানীয় প্রশাসন হিসেবে আমরা ফলাফলের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব। এছাড়া অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোও খতিয়ে দেখা হবে।”
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।