মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
অপরাধ উন্মোচন
nationwide

বিআরটিসির ‘পিংক বাস’: নেটদুনিয়ায় ট্রলিংয়ের শিকার নারী চালকেরা, তবুও দমার পাত্র নন খাদিজারা

২০-০৮-২০২৬
4
বিআরটিসির ‘পিংক বাস’: নেটদুনিয়ায় ট্রলিংয়ের শিকার নারী চালকেরা, তবুও দমার পাত্র নন খাদিজারা
“মতিঝিল বিআরটিসি ডিপোর বিশ্রামাগারে ‘পিংক বাস’-এর চালক খাদিজা আক্তারসহ অন্য নারী সংবাদকর্মীদের ওপর চলমান অনলাইন হেনস্থা নিয়ে কথা বলছেন।”

নারীদের জন্য বিআরটিসির নতুন ‘পিংক বাস’ সেবা চালুর মাত্র তিন দিনের মাথায় সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ট্রলিং ও হেনস্থার শিকার হচ্ছেন নারী চালক ও কনডাক্টররা। তবে নেটদুনিয়ার সাইবার বুলিং কিংবা কুৎসিত মন্তব্যের মুখেও পিছু হটতে নারাজ তারা; সব আক্ষেপ ভুলে পেশাগত সততা নিয়ে রাস্তায় টিকে থাকার শক্ত মানসিকতা দেখাচ্ছেন এসব নারী চালক। মতিঝিল বিআরটিসি বাস ডিপোতে কথা বলে জানা গেছে, একদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিষোদ্গার এবং অন্যদিকে কিছু সংবাদমাধ্যমের নেতিবাচক উপস্থাপনায় কিছুটা সংকুচিত হয়ে পড়েছেন তারা, তবে নিজেদের কাজের প্রতি অটল থেকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই তারা বদ্ধপরিকর।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রলিংয়ের শিকার চালক খাদিজা

গৃহিণী থেকে বাস চালক হয়ে ওঠা খাদিজা আক্তার (২৮) ২০২১ সালে গাড়ি চালনার প্রশিক্ষণ নেন এবং পরবর্তীতে প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করেন। বিআরটিসির গোলাপি রঙের এই বিশেষ বাসের চালক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুৎসিত ঠাট্টাবিদ্রূপের শিকার হচ্ছেন। মতিঝিল ডিপোর বিশ্রামাগারে বসে নিজের মুঠোফোন খুলে আক্ষেপের সাথে হেনস্থার চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও তাঁরা দমে যাবেন না।

১৩ রুটে ১৪টি 'পিংক বাস': সফলতার খোঁজে নতুন উদ্যোগ

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ঢাকা, বগুড়া ও চট্টগ্রামে সম্পূর্ণ নারী চালক ও কনডাক্টর পরিচালিত নারীদের জন্য ১৩টি রুটে ১৪টি বাস চালু করেছে বিআরটিসি। রাজধানী ঢাকায় চলছে ১০টি বাস, যার মধ্যে ৯টিই দ্বিতল। এর আগেও নারীদের জন্য আলাদা বাস চালু করা হলেও অপ্রতুল সংখ্যা ও নানা অব্যবস্থাপনায় তা মুখ থুবড়ে পড়েছিল। তবে এবারই প্রথম চালক ও কনডাক্টর উভয় পদেই নারীদের রেখে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে সেবাটি শুরু করা হয়েছে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত ও মন্ত্রণালয়ের সতর্কতা

নারী বাসযাত্রীরা এই সেবায় নিরাপত্তার অনুভূতি ও স্বস্তি প্রকাশ করলেও পরিবহন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, কেবল কয়েকটি আলাদা বাস না দিয়ে পুরো গণপরিবহনব্যবস্থাকেই নারীদের উপযোগী করা উচিত ছিল। তাছাড়া মাত্র ১৫ জন চালক ও ২৪ জন কনডাক্টর নিয়ে যাত্রা শুরু করায় দীর্ঘ অপেক্ষার দরুন যাত্রীরা আগ্রহ হারাতে পারেন বলেও আশঙ্কা রয়েছে। বিআরটিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আপাতত পরিস্থিতিতে বিআরটিসির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করতে নির্দেশনা রয়েছে এবং সংবাদমাধ্যমে বেশি প্রচার না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন সকাল ৮টা এবং বিকেল ৪টায় দুটি নির্ধারিত ট্রিপ দিচ্ছেন নারী চালকেরা।

সামাজিক মনস্তত্ত্ব ও সাইবার বুলিংয়ের গভীরে

এই ট্রলিংয়ের ঘটনা কেবল কয়েকজন নারী চালকের ওপর আক্রমণ নয়, বরং এটি সমাজে নারীদের অপ্রচলিত পেশায় আসার প্রতি বিদ্যমান বিদ্বেষমূলক মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ। ভিউ পাওয়ার প্রতিযোগিতায় কিছু সংবাদমাধ্যমের নেতিবাচক প্রচার এবং নেটিজেনদের কুৎসিত মন্তব্য কর্মক্ষেত্রে নারীদের আত্মবিশ্বাস তলানিতে নিয়ে যেতে পারে। কেবল ট্রলিং বন্ধের সামাজিক আহ্বানই যথেষ্ট নয়, বরং এই সাহসী নারী চালকদের পাশে দাঁড়ানো এবং সাইবার হেনস্থাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব।

— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মোট ০ প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।

প্রকাশক
নিজস্ব প্রতিবেদক
অপরাধ উন্মোচন
নিউজলেটার

দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান

যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য ()

মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।