বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির অভিযান: সাড়ে ৮ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি ও কসমেটিক্স জব্দ

যশোরের বেনাপোল সীমান্তে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) পৃথক এক অভিযানে সাড়ে ৮ লাখ টাকারও বেশি মূল্যের ভারতীয় চোরাচালানি মালামাল আটক করা হয়েছে। শুক্রবার যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) বিশেষ টহলদল, বেনাপোল বিওপি এবং বেনাপোল আইসিপির যৌথ তৎপরতায় সীমান্তবর্তী বিভিন্ন কৌশলগত পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করা হয়। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে পাচারকারীদের রুখতে এবং চোরাচালান বন্ধে তাদের কঠোর আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
অভিযানে যা জব্দ করল বিজিবি
বিজিবি সূত্র থেকে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই বিশেষ চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ভারতীয় ৭৫টি আকর্ষণীয় শাড়ি, ৩টি কম্বল, ২২টি চকলেট, ৩৪ কেজি ফুসকা, ২ কেজি জিরা, ২৪ দশমিক ৫ কেজি কিসমিস এবং ৩৭৯টি বিভিন্ন প্রকারের কসমেটিক্স সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা অবৈধ এই মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮ লাখ ৫১ হাজার ৪৫০ টাকা।
সীমান্তে কঠোর নজরদারি ও বিজিবির তৎপরতা
যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) জানায়, সীমান্ত পথ ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের অবৈধ মালামাল ও মাদক পাচার ঠেকাতে তাদের নিয়মিত টহল আরও জোরদার করা হয়েছে। আভিযানিক দলগুলোর সার্বক্ষণিক তৎপরতা এবং আকস্মিক তল্লাশির কারণেই একের পর এক পাচার চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। সীমান্তে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও অবৈধ সীমান্ত পারাপার বন্ধে বিজিবির এই জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
চোরাচালান রুখতে প্রস্তুত বিজিবি
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি জানান, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ মালামাল ও মাদক পাচার চক্রের সদস্যদের ফাঁদ ভাঙতে বিজিবি বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করেই সীমান্ত এলাকায় এই ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, দেশের অর্থনীতি রক্ষা এবং সীমান্তে যেকোনো অপতৎপরতা রুখতে বিজিবির এই কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও সমানভাবে অব্যাহত থাকবে।
সীমান্তে চোরাচালান ও অর্থনৈতিক প্রভাব
সীমান্ত বিশ্লেষকদের মতে, রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আনা এসব অবৈধ ভারতীয় মালামাল দেশের স্থানীয় বাজার ও বৈধ ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধাক্কা তৈরি করে। এতে সরকার যেমন রাজস্ব হারায়, তেমনি দেশীয় পণ্যের বাজারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে বিজিবির এই ধারাবাহিক অভিযান ও সীমান্তে কঠোর নজরদারি কেবল চোরাকারবারীদের রুখছে না, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকে সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।