২০ নং ওয়ার্ড বেলতলায় ক্ষমতার লেবাস বদল: ‘খড়মে’র তিন ভাইয়ের সিন্ডিকেটের একক সাম্রাজ্যে এলাকাজুড়ে জিম্মি দশা

বৃষ্টি আক্তার, বিশেষ প্রতিনিধি
রাজধানীর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ২০ নম্বর ওয়ার্ডের অধীন মহাখালী ও বেলতলী এলাকায় চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, জিম্মি বাণিজ্য ও নিজস্ব বিচার-শালিসের নামে চরম নৈরাজ্য সৃষ্টির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের তথ্যমতে, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক লেবাস বদলে পুরনো অপরাধীরাই নতুন পরিচয়ে পুরো এলাকা জিম্মি করে রেখেছে।
সহযোগীরা পলাতক, বেলতলায় খড়মের একক রাজত্ব
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অপরাধে জুনায়েদ, সোহাগ, নায়েব আলী ও রাজুর মতো চিহ্নিত সহযোগীরা বর্তমানে এলাকা ছেড়ে পলাতক। তারা এখন বেলতলা বা মহাখালীর আশেপাশেও ঘেঁষতে পারছে না। তবে চিহ্নিত অপরাধী চক্রের মূল হোতা মোزام্মেল ওরফে ‘খড়ম পাগলা’ এককভাবে বেলতলী ও পুরো ২০ নম্বর ওয়ার্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। পূর্বে জুনায়েদ ও নায়েব আলীদের সাথে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতার সুবিধা ভোগ করলেও, পটপরিবর্তনের পর খড়ম এখন রাতারাতি ‘বড় বিএনপি’ দাবিদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। বর্তমানে দুই ভাইকে সাথে নিয়ে তিন ভাই মিলে পুরো এলাকা জুড়ে একক সাম্রাজ্য ও প্রভাব কায়েম করেছেন।
বিলাসিতার আয়ের উৎস কী?
স্থানীয়দের প্রশ্ন—কয়েকদিন আগেও যাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় টানাটানি ছিল, রাতারাতি নতুন রাজনৈতিক ছায়াতলে এসে সেই খড়ম ও তার দুই ভাইয়ের জীবনযাত্রায় এসেছে চোখধাঁধানো বিলাসিতা। দেশের বাড়িতে ৫ তলা ভবন নির্মাণসহ খড়ম ও তার তিন ভাইয়ের এই অঢেল সম্পদ ও আয়েশী জীবনযাপনের আয়ের উৎস আসলে কী? বিতর্কিত এই চক্রের আয়ের মূল শক্তি যে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব, তা এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে।
অটো গ্যারেজ, স্টিকার বাণিজ্য ও জিম্মি দশা
অভিযোগে জানা যায়, ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বেলতলী, স্থানীয় বাজার মার্কেট ও অটো গ্যারেজগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন মোزام্মেল ওরফে ‘খড়ম’ ও তার ভাইদের হাতে। টোকেন বাণিজ্য, অবৈধ স্টিকার ও অটো স্পিকারের অনুমোদন দিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা তোলা হচ্ছে প্রতিদিন। এছাড়া নিজস্ব লোকবল দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে সিসিটিভি নিয়ন্ত্রিত নজরদারি ব্যবস্থা, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতির খবর আগেই পৌঁছে যায় চক্রটির কাছে।
সন্ধ্যার পর ‘টর্চার সেল’ ও বিচার বাণিজ্য
এলাকাবাসীর দাবি, মহাখালী ও বেলতলার নির্দিষ্ট কয়েকটি স্পটে সন্ধ্যার পর বসে তথাকথিত 'বিচার-শালিস'। সামান্য বিরোধ কিংবা পূর্বশত্রুতার জেরে সাধারণ মানুষকে তুলে এনে জিম্মি করা হয়। বিচার-শালিসের নামে অর্থ আদায় এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে। অতীতে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিক খুনের ঘটনা ঘটলেও চিহ্নিত অপরাধীরা কৌশলে আইনের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে।
২ কোটি ৪০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি
অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, সরকারি নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে এলাকা জুড়ে চালানো হচ্ছে অবৈধ বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ। বিদ্যুৎ বিভাগের বকেয়া বিলের পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ টাকায় পৌঁছালেও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চোখের আড়ালে অবৈধ লাইন দিয়ে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে এই সিন্ডিকেট। এতে সরকার যেমন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ পোহাচ্ছেন তীব্র বিদ্যুৎ সংকট।
প্রতিকার ও আইনি পদক্ষেপের দাবি
সরকার পরিবর্তনের পর ভুয়া রাজনৈতিক পরিচয়ধারী এসব চাঁদাবাজ ও দখলদারদের সুনির্দিষ্ট অপরাধের আমলনামা তদন্ত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন দ্রুত আইনের আওতায় আনে—এমনটাই দাবি ভুক্তভোগী ও স্থানীয় ত্যাগী রাজনৈতিক কর্মীদের।
খড়ম বাহিনীর অপকর্মের নেপথ্য ও বিলাসিতার বিস্তারিত সমস্ত বিষয় নিয়ে পরবর্তী সংখ্যায় চোখ রাখুন।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।