মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
অপরাধ উন্মোচন
nationwide

কম্বোডিয়ায় স্ক্যাম সেন্টারে ১৭ দিন বন্দি ও নির্যাতন: দেশে ফিরলেন বাংলাদেশি যুবক শফিকুল

৫-০৯-২০২৬
4
কম্বোডিয়ায় স্ক্যাম সেন্টারে ১৭ দিন বন্দি ও নির্যাতন: দেশে ফিরলেন বাংলাদেশি যুবক শফিকুল
"কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টারে নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফেরা মো. শফিকুল ইসলাম।"

রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা মো. শফিকুল ইসলাম কম্বোডিয়ায় কম্পিউটার ডেটা এন্ট্রির লোভনীয় চাকরির আশায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁর পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। অনলাইনে প্রতারণার কাজে রাজি না হওয়ায় তাঁকে ১৭ দিন একটি ‘স্ক্যাম সেন্টারে’ (প্রতারণাকেন্দ্র) বন্দি রেখে অমানবিক নির্যাতন ও বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত স্বজনদের প্রচেষ্টায় ৩ হাজার ২০০ ডলার পরিশোধ করে মুক্তি পেয়ে শূন্য হাতে দেশে ফিরেছেন এই যুবক।

সাড়ে ৪ লাখ টাকার চুক্তি ও বিএমইটির কার্ড

শফিকুল প্রায় আট বছর ধরে ঢাকায় অগ্নিনির্বাপণসামগ্রীর ব্যবসা করতেন। ফেসবুকে মো. মাসুদ মিয়া নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয়ের পর তাঁর মাধ্যমে বিদেশে চাকরির প্রস্তাব পান তিনি। গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর ২০০ টাকার স্ট্যাম্পে মাসুদের সঙ্গে সাড়ে চার লাখ টাকার চুক্তি হয়। ঢাকার প্রবাসীকল্যাণ ভবনে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তিন দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে স্মার্টকার্ড বা ছাড়পত্রও সংগ্রহ করেন তিনি।

গত ২৬ অক্টোবর কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর নমপেন বিমানবন্দরেই তাঁর পাসপোর্ট জব্দ করে দেশটির ইমিগ্রেশন। এরপর মাসুদার সহযোগী মোস্তফা মুকুলের মাধ্যমে তাঁকে থাইল্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি দুর্গম কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

যেভাবে চলত স্ক্যাম সেন্টারের প্রতারণা

শফিকুলের ভাষ্যমতে, থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী ওই কমপ্লেক্সের ছয়তলা ভবনের চত্বরটি ছিল মূলত একটি কারাগারের মতো। সেখানে চীনা মালিকানায় পাকিস্তানি ও কিছু বাংলাদেশি-ভারতীয় নাগরিক মিলে এই স্ক্যাম সেন্টার চালাত। এখানে মূলত দুটি বিভাগ ছিল—‘কলিং’ ও ‘চ্যাটিং’।

  • কলিং রুমের প্রতারণা: চার ধাপে বিভক্ত এই বিভাগে প্রথমে ভারতীয় নাগরিকদের তালিকা ধরে ফোন করে তথ্য যাচাই করা হতো। দ্বিতীয় ধাপে আধার কার্ড ও তৃতীয় ধাপে থানার আদলে সাজানো কক্ষে পুলিশ সেজে ভিডিও কলে হাতকড়া পরা অবস্থাতে ভীতি প্রদর্শন করা হতো। চতুর্থ ধাপে ব্যাংকের কায়দায় জরিমানা বা পিন নম্বর চেয়ে ব্যাংক হিসাব হ্যাক করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হতো।

  • চ্যাটিং রুমের প্রতারণা: এই গ্রুপটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী আইডি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রেমের ফাঁদে ফেলত এবং অডিও কলে সফটওয়্যারের মাধ্যমে নারী কণ্ঠে কথা বলে বিশ্বাস অর্জন করে অর্থ আত্মসাৎ করত।

২২ দিন পর মুক্তি ও দেশে ফেরা

প্রতারণার এই কাজে অস্বীকৃতি জানালে শফিকুল ও অপর এক বাংলাদেশি যুবক ইশতিয়াক রাব্বীকে হাতকড়া পরিয়ে বন্দি করা হয়। সেখানে তাঁর ওপর নির্যাতন ও বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়। পরে কম্বোডিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির সহায়তায় ৩ হাজার ২০০ ডলার পরিশোধ করে তাঁকে ছাড়িয়ে আনা হয়। গত ১৮ নভেম্বর তিনি সম্পূর্ণ শূন্য হাতে দেশে ফেরেন।

দালাল মাসুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন এবং বর্তমানে তাঁর অফিস বন্ধ রয়েছে। এই ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং সরকারের কাছে বিচার ও সহায়তা কামনা করেছেন ভুক্তভোগী শফিকুল।

— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মোট ০ প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।

প্রকাশক
নিজস্ব প্রতিবেদক
অপরাধ উন্মোচন
নিউজলেটার

দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান

যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য ()

মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।