রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
২৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
অপরাধ উন্মোচন
nationwide

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের ভুল তথ্য উপস্থাপন তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানাল বাংলাদেশ

১৮-০৮-২০২৬৪০
4
রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের ভুল তথ্য উপস্থাপন  তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানাল বাংলাদেশ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সো মো-র মুখোমুখি ঢাকা অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. তৌফিক-উর-রহমান।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ভুল ও মনগড়া উপাত্ত উপস্থাপনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। আজ মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সো মো-কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে নিয়ে এই ভুল তথ্য সংশোধনের তাগিদ দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, জাতিসংঘ ব্যবস্থার অধীনে নিবন্ধিত ডেটাই রোহিঙ্গাদের প্রকৃত সংখ্যা প্রতিফলিত করে। একই সাথে মিয়ানমার কতৃক রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত প্রত্যাখ্যান করে তাঁদের নিজস্ব জাতিগত পরিচয় স্বীকার করার কথা জোর দিয়ে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে ঢাকা।

মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতের মুখোমুখি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক

মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মিয়ানমার অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. তৌফিক-উর-রহমান তাঁর নিজ কার্যালয়ে রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সো মো-র সাথে এই জরুরি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন। সম্প্রতি মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছিল, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন শরণার্থীর তালিকার মধ্যে তারা ৩ লাখ ৮ হাজারের পরিচয় যাচাই করেছে এবং ১ লাখ ১৩ হাজারের পরিচয় মেলেনি। শুধু তা-ই নয়, ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার সত্যতা অস্বীকার করে ৪ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গাকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দেয় নেপিডো। মায়ানমারের এই কাল্পনিক ও বিভ্রান্তিকর তালিকার বিপক্ষেই কড়া অবস্থান নেয় বাংলাদেশ।

শিশুদের অন্তর্ভুক্তকরণ ও নতুন তালিকার হস্তান্তর

বৈঠকে মহাপরিচালক তৌফিক-উর-রহমান দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার ভিত্তিতে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে রোহিঙ্গা যাচাইকরণ প্রক্রিয়া শেষ করার তাগিদ দেন। বিশেষ করে ২০১৭ সালের পর বাংলাদেশে আশ্রয়শিবিরগুলোতে জন্ম নেওয়া শিশু এবং পরবর্তীতে রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা নতুন রোহিঙ্গাদের তথ্য এই তালিকায় যুক্ত করার অনুরোধ জানানো হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার এসব আশ্রিতদের পূর্ণাঙ্গ নিবন্ধনের কাজ চালাচ্ছে এবং প্রাথমিক ৮ লাখ ২৮ হাজারজনের তালিকার বাইরের বাকি রোহিঙ্গাদের তথ্যও দ্রুতই মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে বৈঠকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

"রোহিঙ্গারা বাঙালি নয়"—স্পষ্ট বার্তা ঢাকার

মায়ানমার সরকার বারবার রোহিঙ্গাদের 'বাঙালি' তকমা দিয়ে দায় এড়াতে চাইলেও ঢাকা এবার বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত শক্ত অবস্থান নিয়েছে। বৈঠকে পরিষ্কারভাবে বলা হয়, রোহিঙ্গারা কোনোভাবেই বাঙালি নন। অতি সম্প্রতি পর্যন্ত মিয়ানমার রাষ্ট্র কাঠামোজুড়েই তাদের নিজস্ব জাতিগত পরিচয় স্বীকৃত ছিল। জবাবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত সো মো আশ্বাস দিয়ে জানান, বাংলাদেশের এসব গভীর উদ্বেগ ও পর্যবেক্ষণ তিনি তাঁর দেশের শীর্ষ কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত পৌঁছে দেবেন। একই সাথে তিনি দাবি করেন, যাচাই করা রোহিঙ্গাদের দ্রুত মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে নিতে তাঁর সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান ও মনস্তাত্ত্বিক বাস্তবতা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক আবারও পুনর্ব্যক্ত করেন, রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হচ্ছে রাখাইন রাজ্যে তাদের নিজস্ব ভিটেমাটিতে সম্মানজনক, নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন। ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর গণহত্যার শিকার হয়ে ৮ লক্ষাধিক মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়, যা আগে থেকে থাকা কয়েক লাখের সাথে যুক্ত হয়ে এক মানবিক বিপর্যয় তৈরি করেছে। একটি জাতিকে বাস্তুচ্যুত করে পরবর্তীতে তাদের ইতিহাস ও পরিচয় মুছে ফেলার এই যে অপচেষ্টা, তা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জন্য এক চরম হুমকিস্বরূপ। প্রতিবেশীর এই কৌশলগত মিথ্যাচার কেবল সংকটকে দীর্ঘায়িতই করছে না, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মোট ০ প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।

প্রকাশক
নিজস্ব প্রতিবেদক
অপরাধ উন্মোচন
নিউজলেটার

দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান

যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।