এভিয়েশনের পিডি নুরুদ্দীন চৌধুরীর একক রাজত্ব ও শত কোটি টাকার দুর্নীতি অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদক (হাবিব সরকার স্বাধীন):
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) এবং একই সাথে সিভিল ডিভিশন-২ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দ্বৈত দায়িত্ব পালন করছেন এইচএমডি নুরুদ্দীন চৌধুরী। স্বায়ত্তশাসিত বা সরকারি প্রতিষ্ঠানে সকল নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে কীভাবে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল আছেন, তা নিয়ে বিমান অফিসপাড়ায় তীব্র অসন্তোষ ও নানা প্রশ্ন উঠেছে।
চাকরি জীবন ও পদোন্নতি:
২০০০ সালে সহকারী প্রকৌশলী পদে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন নুরুদ্দীন চৌধুরী। ২০০৭ সালে নির্বাহী প্রকৌশলী এবং ২০১৬ সালে নানা তদবিরের মাধ্যমে তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে উন্নীত হন। অভিযোগ রয়েছে, পদোন্নতির পর থেকেই নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ বণ্টন এবং এখান থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক বনে যান। নিজের ও বেনামে একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাটের মালিক হওয়ার পাশাপাশি রাতারাতি অঢেল অর্থ-সম্পদ গড়ার পেছনে বেবিচকের কিছু অসাধু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে তার অনৈতিক যোগসাজশ রয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। তার একক আধিপত্য ও দাপটের কারণে প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাননি।
তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্প ও মাটি বাণিজ্য:
তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে বহাল থাকা অবস্থাতেই ২০২১ সালে তার ঝুলিতে যুক্ত হয় তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের অতিরিক্ত পদ। প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া, কমিশন বাণিজ্য এবং টার্মিনালের মাটি বিক্রির মাধ্যমে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
কাওলায় মাটির পাহাড় ও নাগরিক দুর্ভোগ:
প্রকল্পের দ্রুত মাটি অপসারণ করতে না পেরে কাজের ব্যাঘাত এড়াতে অবশিষ্ট মাটি কাওলার ট্রান্সমিটার মাঠের বিপরীত পাশের আবাসিক এলাকায় এনে বিশাল কৃত্রিম মাটির পাহাড় বানিয়ে রাখা হয়েছে। বর্তমানে এই নির্জন মাটির পাহাড়ের আড়ালে রাতে বসছে মাদকের আসর এবং বৃদ্ধি পেয়েছে ছিনতাইসহ নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ড।
এদিকে কাওলার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রাস্তার সংস্কারকাজ চলায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ট্রান্সমিটার তথা মন্দিরের রাস্তা দিয়ে স্থানীয় জনগণ এবং সিভিল এভিয়েশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করছে। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই ওই মাটির পাহাড় থেকে মাটি ও কাদা নেমে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী ও শিক্ষার্থীরা।
সচেতন মহলের ক্ষোভ ও দাবি:
গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা ও ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের মূল লক্ষ্য যেখানে ছিল বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা—সেখানে একজন কর্মকর্তার এভাবে স্বৈরাচারী কায়দায় দুটি উচ্চপদে বহাল থাকা পুরো প্রশাসনিক সংস্কারকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল কাওলা থেকে দ্রুত এই মাটির পাহাড় অপসারণের পাশাপাশি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফেরাতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।