মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
অপরাধ উন্মোচন
sarkar

পলাতক স্বৈরাচার ও একটি মহলের চক্রান্তে শ্রমিক অসন্তোষের চেষ্টা

২০-১০-২০২৬৩০
4
পলাতক স্বৈরাচার ও একটি মহলের চক্রান্তে শ্রমিক অসন্তোষের চেষ্টা
"রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভা এবং ধানের শীষ হাতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি।"

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:

দেশের কয়েকটি জায়গায় ও কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ তৈরির চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী শক্তি এই অসন্তোষে অর্থ সরবরাহ করছে এবং নির্বাচনের আগে বিভিন্ন টিকিট বিক্রির চেষ্টা করা কয়েকটি দলও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শ্রমিক অসন্তোষ ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, যে স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে, তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে।... কাদের সাহায্যে করছে? এই যে কটা দল আছে, যারা ভ্রান্তি ছড়ায় দেশের মধ্যে। তারা বিভিন্ন টিকিট বিক্রি করার চেষ্টা করেছিল নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে। এই দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে।”

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকার দেশে স্থিতিশীলতা আনতে, নিরাপত্তা বাড়াতে, বন্ধ কলকারখানা চালু করতে এবং কৃষকদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু কয়েকটি দল রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সরকারের এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলেও উন্নয়নের সময় এমন ষড়যন্ত্র হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনো দেশের অগ্রগতির প্রক্রিয়া রোধ করার অপচেষ্টা চলছে।

জুলাই অভ্যুত্থান ও পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে বক্তব্য

বিএনপি মহান মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকে ধারণ করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে ঢাকার ওসমানী উদ্যানে স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করা হলেও কয়েকটি রাজনৈতিক দল সেখানে উপস্থিত হয়নি। জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ’৭১ সালের মতো তারা চব্বিশের জুলাই আন্দোলনকেও ধোঁকা দিয়েছে। মুখে এক কথা বললেও তাদের কর্মে অন্য রূপ প্রকাশ পায়।

এ সময় রাজশাহী অঞ্চলে পদ্মা নদীর পানি কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পানির সংকট মোকাবিলায় পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রয়োজনে বাংলাদেশের মানুষের পানির অধিকার আদায়ে যত দূর যেতে হয়, সরকার সে চেষ্টা করবে।

জনসভার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী অঞ্চলের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষিকে মুঠোফোনে আর্থিক পরিষেবার মাধ্যমে একযোগে ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা প্রদান করেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রমুখ।

রংপুর মন্দির পরিদর্শন ও রাজনীতির পরিবর্তনের ঘোষণা

এর আগে আজ দুপুরে রংপুর নগরের ধর্মসভা রাধাগোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি বলেন, “অতীতে আমরা যে রাজনীতি দেখেছি, তার পরিবর্তন করতে চাই। এই পরিবর্তনের বড় শক্তি হচ্ছে জনগণ।” বর্তমান সরকার দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করতে চায় উল্লেখ করে তিনি জানান, রংপুর মহানগরের উন্নয়নে ইতিমধ্যে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মন্দিরের উন্নয়নকাজে ১০ লাখ টাকার চেক প্রদান এবং পূজারিদের সুবিধার্থে অবকাঠামো নির্মাণের নির্দেশ দেন তিনি।

— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মোট ০ প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।

প্রতিবেদক
ক্রাইম রিপোর্টার
sarkar বিভাগ · অপরাধ উন্মোচন
নিউজলেটার

দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান

যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।