পুরান ঢাকায় জবি প্রাক্তন ছাত্রীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা

প্রতিবেদক
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়,
রাজধানীর পুরান ঢাকার কলতাবাজার এলাকার একটি নারীদের মেস থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নাট্যকলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মমতাজ আরা বর্ষাকে সাদাপোশাক ও কোনোপ্রকার আইনি পরোয়ানা ছাড়া জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (০৬ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে 'র্যাব-২' এর স্টিকারযুক্ত গাড়িতে করে আসা কয়েকজন ব্যক্তি এ ঘটনা ঘটান। তবে কোনো পরিচয়পত্র, মামলার কাগজপত্র বা নারী সদস্য না থাকায় মেসের শিক্ষার্থীদের সন্দেহ হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জবি শিক্ষার্থীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তীব্র বাধা দিলে ওই ব্যক্তিরা শিক্ষার্থীকে না নিয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হন। পুলিশ পরবর্তীতে নিশ্চিত করেছে যে, আগত ব্যক্তিরা প্রকৃতপক্ষে র্যাব-২-এর সদস্য ছিলেন।
পারিবারিক প্রতিশোধে র্যাবের প্রভাব ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ
ঘটনার পর বিকেলে জবি ক্যাম্পাসের ভাষাশহীদ রফিক ভবনের নিচে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী মমতাজ আরা বর্ষা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি দাবি করেন, তাঁর ছোট বোনের সাথে বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া সাবেক স্বামী সুমন মিয়ার পারিবারিক বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। বর্ষা জানান, গত মাসে তারা দিনাজপুরের আদালতে সুমনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সুমন, যিনি আগে র্যাবের আইটি সেকশনে কর্মরত ছিলেন, সেই পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে প্রতিশোধ নিতে এই অপচেষ্টা চালিয়েছেন। বর্ষার প্রশ্ন, "কোনো নারী সদস্য বা ওয়ারেন্ট ছাড়া কীভাবে পুরুষ সদস্যরা ভোরে নারীদের মেসে ঢুকে তল্লাশি চালায় ও তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে?"
শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাহসী অবস্থান
ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই দ্রুত কলতাবাজারে ছুটে যান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আহমেদ ইহসানুল কবির এবং পরিবহন প্রশাসক তারেক বিন আতিক। তাঁরা দেখতে পান যে বর্ষাকে ইতোমধ্যে র্যাবের গাড়িতে তোলা হয়েছে। প্রক্টরিয়াল টিম স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, প্রক্টর অফিস ও উপাচার্যকে না জানিয়ে এবং কোনো সঠিক আইনি নথি ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীকে নেওয়া যাবে না। সূত্রাপুর থানার ওসি মোহাম্মদ আনোয়ারও ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি জানান, একটি চুরির মামলার অভিযোগে র্যাব সদস্যরা এসেছিল, তবে সেটি মূলত পারিবারিক বিরোধ সম্পর্কিত হওয়ায় পরবর্তীতে তারা শিক্ষার্থীকে না নিয়ে চলে যায়।
আইনি প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জকসুর নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, যেকোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচার হবে, কিন্তু সাধারণ পোশাকে ওয়ারেন্ট ও নারী সদস্য ছাড়া এমন আচরণ নিরাপত্তা নিয়ে মারাত্মক প্রশ্ন তোলে। বর্তমানে শিক্ষার্থী বর্ষার পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রধান অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে, প্রভাব খাটিয়ে বা পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তার পেছনে কোনো অনিয়ম ছিল কি না—তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী মহল।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারিক প্রক্রিয়ায় 'ডিউ প্রসেস' বা সঠিক নিয়ম অনুসরণ না করলে সাধারণ মানুষের মাঝে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি চরম আস্থার সংকট তৈরি হয়। সাদাপোশাকে এবং পর্যাপ্ত কাগজপত্র ছাড়া নারীদের মেসে ভোরে অভিযান চালানোর মতো ঘটনা সামাজিক আতঙ্ক বাড়ায়। বিশেষ করে প্রশাসনিক ক্ষমতা বা প্রভাবকে ব্যক্তিগত কলহে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিজস্ব তদারকি জোরদার করা আবশ্যক।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।