বাঞ্ছারামপুরে পুলিশের ওপর হামলা, আহত ৫ অর্ধশতাধিক আসামির বিরুদ্ধে মামলা

আনোয়ার হোসেন, বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে দুই ব্যক্তির বাগ্বিতণ্ডা থামাতে গিয়ে টহলরত পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য ও এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। হামলার ঘটনায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫০-৬০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ।
রোববার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে উপজেলার ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের মাছিমনগর গ্রামের শাহ রাহাত আলী (রহ.) মাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার কনস্টেবল মো. ফরহাদ হোসেন, এমদাদুল হক, সাইফুল আলম ও হোসনে মোবারক। এছাড়া ওরশে দায়িত্ব পালনরত জেনারেটরচালক রেজন মিয়া আহত হন। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, গত ২৯ জুলাই মাছিমনগর গ্রামে হযরত শাহ রাহাত আলী (রহ.)-এর বার্ষিক ওরশ শুরু হয়। ওরশ উপলক্ষে স্থানীয় মনির হোসেন তার দোকানের জন্য রেজন মিয়ার কাছ থেকে জেনারেটরের বিদ্যুৎ সংযোগ নেন। রোববার রাতে বিল পরিশোধকে কেন্দ্র করে মনির হোসেন ও রেজন মিয়ার মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে টহলরত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, এ সময় স্থানীয় মামুন মিয়া মনির হোসেনের পক্ষ নিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালান। হামলার সময় রাহাত আলী স্কুলের কিছু আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত ৪০ সদস্যের রিজার্ভ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জেনারেটরচালক রেজন মিয়ার ভাষ্য, হামলাকারীদের কয়েকজন মদ্যপ ছিলেন। তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যদের রক্ষা করতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।
থানা সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্ত মামুন মিয়া, মনির হোসেনসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
ওরশ কমিটির সভাপতি ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তারিকুল ইসলাম বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পুলিশের ওপর হামলার মতো ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।