সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
অপরাধ উন্মোচন
nationwide

উত্তরা পাসপোর্ট অফিসে দালাল ছাড়া আবেদন জমা হয় না উপপরিচালক রোজী খন্দকারের বিরুদ্ধে অনিয়মের পাহাড়

২-১১-২০২৬১০
4
উত্তরা পাসপোর্ট অফিসে দালাল ছাড়া আবেদন জমা হয় না উপপরিচালক রোজী খন্দকারের বিরুদ্ধে অনিয়মের পাহাড়
"উত্তরা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস এবং সেবাগ্রহীতাদের দীর্ঘ লাইনের প্রতীকী ছবি।"

বিশেষ প্রতিবেদক, অপরাধ উন্মোচন:

রাজধানীর উত্তরা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্ট সেবা নিতে গিয়ে চরম হয়রানি, আবেদন ফেরত দেওয়া এবং দালালনির্ভরতার এক নৈরাজ্যকর চিত্র সামনে এসেছে। সেবাগ্রহীতাদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও নানা অজুহাতে সরাসরি আবেদন ফেরত দেওয়া হলেও দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা দিলে খুব সহজেই সেই আবেদন জমা নেওয়া হচ্ছে। সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে সাড়ে তিন হাজার থেকে আট হাজার টাকা কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে আরও বেশি অর্থ লেনদেনের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

দালাল সিন্ডিকেট ও হয়রানির চিত্র

সরেজমিন অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য উঠে এসেছে:

  • কবির হোসেনের অভিজ্ঞতা: কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও পেশা হিসেবে ‘কৃষি’ উল্লেখ করায় কবির হোসেনের আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদ বা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কৃষক প্রত্যয়নপত্র না থাকার অজুহাতে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অথচ দালালের মাধ্যমে গেলে এই জটিলতা থাকে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

  • মনির হোসেনের দুর্ভোগ: আগুনে পুড়ে যাওয়া পুরোনো পাসপোর্টের বিপরীতে দ্রুত নতুন পাসপোর্টের জন্য টাঙ্গাইল থেকে ফিরে ঢাকার রানার মাধ্যমে যোগাযোগ করে ২২ হাজার টাকায় চুক্তি করেন তিনি। কিন্তু ১৪ দিন পেরিয়ে গেলেও পাসপোর্ট না পাওয়া এবং রানার ফোন বন্ধ পাওয়ার মতো প্রতারণার শিকার হন তিনি।

  • আলম ও রিপনের অভিযোগ: গাজীপুর থেকে আসা আলম দ্বিতীয় বিয়ে ও তালাকের কাগজপত্রের জটিলতায় আটকে যাওয়ার পর এক দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত সাড়ে তিন হাজার টাকা দিয়ে কোনো ঝামেলা ছাড়াই আবেদন জমা দিতে সক্ষম হন। একইভাবে আশুলিয়ার রিপন মিয়াকে তিনবার ফিরিয়ে দেওয়ার পর সাড়ে আট হাজার টাকায় দালালের মাধ্যমে আবেদন জমা দিতে বাধ্য করা হয়।

উপপরিচালক রোজী খন্দকারের বিতর্কিত ভূমিকা

সকল অনিয়ম ও অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন উত্তরা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক (ডিডি) রোজী খন্দকার। স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের দাবি, তাঁর যোগদানের পর থেকেই অফিসটিতে দালাল চক্রের তৎপরতা বহুগুণ বেড়ে গেছে। অফিসের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যক্ষ যোগসাজশেই এই সিন্ডিকেট পরিচালিত হচ্ছে।

এর আগে বরিশালে বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে দায়িত্ব পালনকালেও তাঁর বিরুদ্ধে দালালনির্ভর সেবা, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং খোদ দালালদের হাতে পাসপোর্ট ডেলিভারি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। উত্তরা অফিসেও কর্মচারী রানাসহ একটি চক্র এই ঘুষ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

সংবাদ প্রকাশের স্বার্থে উপপরিচালক রোজী খন্দকারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠিয়েও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—পাসপোর্টের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নাগরিক সেবা পেতে কেন বারবার দালালের দ্বারে ঘুরতে হবে? এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মোট ০ প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।

প্রকাশক
নিজস্ব প্রতিবেদক
অপরাধ উন্মোচন
নিউজলেটার

দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান

যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।