রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
২৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
অপরাধ উন্মোচন
nationwide

দেশের ৫ জেলায় অ্যানথ্রাক্স আতঙ্ক: শতাধিক আক্রান্ত, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩১

২৩-০৯-২০২৬৬০
4
দেশের ৫ জেলায় অ্যানথ্রাক্স আতঙ্ক: শতাধিক আক্রান্ত, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩১

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের একাধিক জেলায় প্রাণীবাহিত বা জুনোটিক রোগ অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত দুই মাসে গাইবান্ধা, মেহেরপুর, রংপুর, দিনাজপুর ও কুষ্টিয়া—এই পাঁচ জেলার শতাধিক মানুষ অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে শুধু গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালেই ৩১ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) কাজ শুরু করেছে।

কোথায় কী পরিস্থিতি?

  • গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ: ৯ সেপ্টেম্বর একটি রুগ্‌ণ গরু জবাই করে মাংস ভাগাভাগি করার পর ওই মাংসের সংস্পর্শে আসা মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত সুন্দরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ৩১ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর আগে আগস্ট মাসেও ৩০ আগস্ট ছয়জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

  • মেহেরপুরের গাংনী: আগস্ট মাসে ৩৮ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১৮ জনসহ এই উপজেলায় মোট ৫৬ জন অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছেন। রুগ্‌ণ ছাগলের মাংস কাটা বা নাড়াচাড়ার কারণে তারা আক্রান্ত হলেও কেউ হাসপাতালে ভর্তি হননি।

  • কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও অন্যান্য: দুই মাস আগে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার দুটি গ্রামের অন্তত ১৫ জন রুগ্‌ণ গরুর মাংসের সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এছাড়া রংপুর জেলার পীরগাছা এবং দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলা থেকেও অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হওয়ার বিচ্ছিন্ন খবর পাওয়া গেছে।

রোগ যেভাবে ছড়ায় ও লক্ষণ

আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী, অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু মাটিতে থাকে এবং ঘাস খাওয়ার সময় গরু-মহিষের মতো তৃণভোজী প্রাণী এতে আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত পশুর মাংস নাড়াচাড়া করলে বা কাঁচা ও অর্ধসেদ্ধ মাংস খেলে মানুষের মধ্যে এই রোগ ছড়ায়। তবে এটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না।

অ্যানথ্রাক্স সাধারণত মানুষের ত্বকে বেশি দেখা দেয়। আক্রান্ত ব্যক্তির ত্বকে চুলকানিযুক্ত লাল ফুসকুড়ি দেখা দেয় যা পরবর্তীতে ফোসকায় রূপ নেয়। সময়মতো চিকিৎসা না করালে এটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত ও করণীয়

আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকী জানান, অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে শতভাগ গবাদিপশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে, যার মূল দায়িত্ব প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের। এছাড়া আক্রান্ত পশু জবাই বা বিক্রি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে এবং মারা যাওয়া পশুকে বিধিমোতাবেক মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হবে। আইইডিসিআরের একটি অনুসন্ধান দল ইতিমধ্যে সুন্দরগঞ্জে কাজ শুরু করেছে।

— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মোট ০ প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।

প্রকাশক
নিজস্ব প্রতিবেদক
অপরাধ উন্মোচন
নিউজলেটার

দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান

যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।