রংপুরের গঙ্গাচড়ায় সরকারি ত্রাণ ও শুকনো খাবার পাচারের অভিযোগ পিআইও

নিজস্ব প্রতিবেদক: রংপুরের গঙ্গাচড়ায় জরুরি ত্রাণ সহায়তার জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি শুকনো খাবার রাতের আঁধারে পাচারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অফিস বন্ধের পর নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে আত্মীয়কে ডেকে মাইক্রোবাসে করে এসব ত্রাণ পাচার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
গোপনীয়তা ও পাচারের বিবরণ
জানা গেছে, গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে সরকারি সকল অফিস বন্ধ হওয়ার পর পিআইও মো. মাইদুল ইসলাম কাউকে না জানিয়ে নিজ অফিস খোলা রাখেন। এরপর উপজেলা অফিসার্স কল্যাণ ক্লাবের স্টোর রুম থেকে মাইক্রোবাসযোগে জরুরি ত্রাণ কার্যক্রমের শুকনো খাবার পাচার করা হয়।
গোপন সূত্রে জানা যায়, পাচারকৃত প্রতিটি বস্তার ভেতরে ১০ কেজি চাল, ১ কেজি দেশি মসুর ডাল, ১ কেজি আয়োডিনযুক্ত লবণ, ১ কেজি চিনি, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ১০০ গ্রাম মরিচের গুঁড়া, ২০০ গ্রাম হলুদ এবং ১০০ গ্রাম ধনিয়া গুঁড়াসহ মোট ১৪.৩৫ কেজি শুকনো খাবার ছিল।
যে ব্যক্তির মাধ্যমে এই শুকনো খাবার পাচার করা হয়েছে, তাঁর নাম কোনো বিতরণ রেজিস্টারে ছিল কি না—তা জানতে চাওয়া হলে পিআইও কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি। এছাড়া পিআইও কার্যালয়ে থাকা ২৭৫ বস্তা শুকনো খাবারের বরাদ্দ ও বিতরণসংক্রান্ত নথি বা মাস্টাররোল দেখতে চাওয়া হলেও তিনি কোনো সদুত্তর দেননি।
অভিযুক্ত পিআইও ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পিআইও মো. মাইদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, “আমি কিছু বলব না। ইউএনওকে জিজ্ঞেস করেন।” পরে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, “ইউএনও কি কালোবাজারে বিক্রি করতে বলছে?”—এই প্রশ্নের জবাবে তিনি সম্পূর্ণ নীরব থাকেন।
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জেসমিন আক্তারের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, “যার দপ্তর, তার কাছে জিজ্ঞেস করেন। যদি অভিযোগ সত্য হয়, বিষয়টি জেলা কর্মকর্তা তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।”
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া বলেন, “যেহেতু স্থানীয় প্রশাসন ইউএনও, তাই তিনিই বিষয়টি দেখবেন।” এছাড়া রংপুর জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।”
সচেতন মহলের ক্ষোভ ও দাবি
এ ঘটনায় সচেতন মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, গরিব-দুঃস্থ মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি সহায়তা প্রকৃত উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে কি না, ২৭৫ বস্তার কতটুকু বিতরণ হয়েছে এবং কারা তা পেয়েছেন—তা সরকারি নথি যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জাতির সামনে উন্মোচন করা অত্যন্ত জরুরি।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।