বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
অপরাধ উন্মোচন
nationwide

কাস্টমস সহকারী কমিশনার সাকিব আনাম খানের বিরুদ্ধে ৭৬ লাখ টাকার শুল্ক ফাঁকি ও অনিয়মের অভিযোগ

৪-১১-২০২৬৭০
4
কাস্টমস সহকারী কমিশনার সাকিব আনাম খানের বিরুদ্ধে ৭৬ লাখ টাকার শুল্ক ফাঁকি ও অনিয়মের অভিযোগ
"ঢাকা কাস্টম হাউস এবং কুরিয়ার ইউনিটের প্রতীকী ছবি।"

বিশেষ প্রতিবেদক, অপরাধ উন্মোচন:

গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখায় পদায়ন পাওয়ার পর থেকেই একের পর এক গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে জড়িয়েছেন কাস্টম হাউস ঢাকার সহকারী কমিশনার সাকিব আনাম খান। বিসিএস ৪০ ব্যাচের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, অনৈতিক সুবিধা পেলে তিনি আইন ও বিধিবিধান সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই পণ্য চালান খালাস করে দেন, যার ফলে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। কাস্টম হাউসের অন্দরে এই অনিয়ম এখন প্রায় ‘ওপেন সিক্রেট’।

৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি ও ফুলএভার বিডির চাঞ্চল্যকর ঘটনা

সর্বশেষ চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে কাস্টম হাউসের কুরিয়ার ইউনিটে। গত ২৩ আগস্ট ঢাকা কাস্টম হাউসের কুরিয়ার ইউনিট দিয়ে ‘ফুলএভার বিডি লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান পণ্য চালান আনে (বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-৯৯২৬২৩)। কাগজপত্রে পণ্যের বিবরণ ‘কাগজ’ দেখানো হলেও বাস্তবে প্রতিষ্ঠানটি ‘আরএফ লেভেলের’ বাণিজ্যিক পণ্য খালাস করে নিয়ে যায়।

কুরিয়ার ইউনিটের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার সাকিব আনাম খান কোনো যাচাই না করেই ওই ঘোষণার ভিত্তিতে চালানটি মাত্র ৩৫ হাজার টাকা শুল্ক-কর নির্ধারণ করে ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজির এলে তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে—ওই চালান থেকে সরকারের প্রাপ্য শুল্ক-কর ছিল ৭৬ লাখ টাকা। কিন্তু ততক্ষণে আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান সহকারী কমিশনারের প্রত্যক্ষ সহায়তায় চালান নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকির মামলা করলেও চালান ছাড় হয়ে যাওয়ায় এক টাকাও আদায় করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনার পর কাস্টম হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম কুরিয়ারের আরও ৩১টি চালানে ‘লক’ দিয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে।

কুরিয়ার ইউনিটকে বাণিজ্যিক বাণিজ্যের আখড়া বানানোর অভিযোগ

কুরিয়ার ইউনিটের মূল উদ্দেশ্য এলসি ছাড়া নমুনা পণ্য খালাস করা হলেও, সাকিব আনাম খান যোগদানের পর থেকে ইউনিটটি বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। সূত্র জানায়, ফুলএভার বিডির ঘটনা ছাড়াও একজন শ্রমিকের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে মাত্র পাঁচ দিনে প্রায় ৪০টি বিল অব এন্ট্রির পণ্য (যেমন—ডেল্টা কার্গো মিডিয়ার নামে) অবৈধভাবে খালাস করা হয়েছে।

কাস্টম হাউসের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর দাবি, তিনি কুরিয়ারে যোগ দেওয়ার পর দুটি সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে, যারা বিভিন্ন সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স ভাড়া নিয়ে তাঁর মাধ্যমে বন্ডেড ফেব্রিক্স ও বাণিজ্যিক পণ্য মিথ্যা ঘোষণায় বের করে নিচ্ছে। এর আগে রাজশাহী ভ্যাট কমিশনারেটে কর্মরত থাকাকালীনও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে হয়রানি করে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে তাঁকে ঈশ্বরদী ইপিজেড থেকে মাত্র দুই মাসের মাথায় সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে গত বৃহস্পতিবার সাকিব আনাম খানকে ঢাকা কাস্টম হাউসের অন্য একটি শাখায় বদলি করা হয়েছে।

অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী কমিশনার সাকিব আনাম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফুলএভার বিডিসহ কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, প্রতিষ্ঠানটি পণ্যের মূল্য কম ঘোষণা করেছিল বলেই শুল্ক ফাঁকির মামলা হয়েছে। তবে ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব প্রাপ্য থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি মাত্র ৩৫ হাজার টাকা শুল্ক নির্ধারণ করে চালান ছেড়ে দিলেন—এই সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের কোনো উত্তর তিনি দেননি এবং কৌশলে এড়িয়ে গেছেন।

— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মোট ০ প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।

প্রকাশক
নিজস্ব প্রতিবেদক
অপরাধ উন্মোচন
নিউজলেটার

দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান

যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।