মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
অপরাধ উন্মোচন
অপরাধ

যশোর কেশবপুরে বাবার লাশ রেখে মারামারির পর এবার মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিল ছেলেরা

১৪-০৯-২০২৬
4
 যশোর কেশবপুরে বাবার লাশ রেখে মারামারির পর এবার মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিল ছেলেরা
"যশোরের কেশবপুরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই ভাই ও পরিবারের মারামারির দৃশ্য।"

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বাবার লাশ রেখেই দুই ভাইয়ের মারামারির চাঞ্চল্যকর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ৭০ বছর বয়সী মা নুরজাহান বেগমকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বুধবার দুই ছেলে ও তাঁদের স্ত্রীদের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই মা। বর্তমানে তিনি মেয়ে তাসলিমা বেগমের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মায়ের অভিযোগ

গত সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার সন্ন্যাসগাছা গ্রামের আবদুল খালেক মান (৭৫) মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বড় ছেলে মাহবুবুর রহমান (৫২) ও ছোট ছেলে আসাবুল (৪২) নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। দুই ভাই ও তাঁদের স্ত্রীদের মধ্যকার ওই মারামারির ঘটনায় সবাই আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ছোট ছেলে আসাবুল ও তাঁর স্ত্রী হালিমা খাতুন বাড়িতে গিয়ে বয়োবৃদ্ধ মা নুরজাহান বেগমকে মারধর ও অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিরুপায় হয়ে বৃদ্ধা মা ব্যাসডাঙ্গা গ্রামে তাঁর মেয়ে তাসলিমার বাড়িতে আশ্রয় নেন।

বুধবার ইউএনও বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে নুরজাহান বেগম উল্লেখ করেন, বৃদ্ধ বয়সে দুই ছেলে ও তাঁদের স্ত্রীরা তাঁর কোনো ভরণপোষণ দিচ্ছেন না, উল্টো তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন। এমনকি স্বামীর দাফন ও জানাজায়ও বাধা দেওয়া হয়েছে। তিনি এই অমানবিক আচরণের বিচার ও আইনগত সহায়তা দাবি করেছেন। মেয়ে তাসলিমা বেগম জানান, দুই ভাই মায়ের দায়িত্ব নিতে না চাইলেও তিনি নিজে মায়ের দেখভাল করবেন।

অভিযুক্ত ও প্রশাসনের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ছোট ছেলে আসাবুলের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি এবং তাঁর মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। তবে আসাবুলের ছেলে আল আমিন দাবি করেন, দাদি অভিমান করে চলে গেছেন এবং তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হবে। অন্যদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বড় ছেলে মাহবুবুর রহমান বলেন, বাবা তাঁর কাছে থাকলেও মা থাকতেন ছোট ভাইয়ের কাছে। ছোট ভাই দায়িত্ব না নিলে তিনিও একা সব দায়িত্ব নিতে চান না, তবে পরবর্তীতে মায়ের দেখাশোনার দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি অত্যন্ত মর্মান্তিক। ভুক্তভোগী এই মাকে দ্রুত আইনগত সহায়তা প্রদান করা হবে।

— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মোট ০ প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।

প্রতিবেদক
ক্রাইম রিপোর্টার
অপরাধ বিভাগ · অপরাধ উন্মোচন
নিউজলেটার

দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান

যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য ()

মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।