বনানীতে স্পার আড়ালে অপকর্মের সিন্ডিকেট ব্ল্যাকমেইলিং ও মাদক বাণিজ্যের অভিযোগ খবর ভাইরাল

রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীর ২৭ নম্বর রোড ও কবরস্থান সংলগ্ন বাণিজ্যিক এলাকাটিতে স্পা সেন্টারের আড়ালে এক ভয়ংকর অপকর্মের সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিউটি স্পা ও ম্যাসাজ পার্লারের নাম দিয়ে পরিচালিত এই কেন্দ্রগুলোতে অসামাজিক কার্যকলাপ, অবাধে মাদক সরবরাহ এবং বিত্তবান ব্যক্তিদের ফাঁদে ফেলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে একটি শক্তিশালী চক্রের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী, ভবন মালিক ও অধিবাসীদের দাবি, বিশেষ করে সন্ধ্যার পর এই এলাকায় অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং মাদকের বেচাকেনা উন্মুক্ত আকার ধারণ করে। ফলে অভিজাত এলাকার সাধারণ মানুষের চলাচল এবং সামাজিক পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
গোপালগঞ্জের শহীদ সিন্ডিকেটের দাপট ও 'ফিটিং' বাণিজ্য
অনুসন্ধানে ও প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, এই পুরো অপরাধ সিন্ডিকেটের মূল হোতা জাতীয় শ্রমিক লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার বাসিন্দা শহীদ। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী ব্যবহার করে সে দীর্ঘদিন ধরে গুলশান-বনানী এলাকায় নিজের অপরাধ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রেখেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও, ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রের দেওয়া তথ্যে চাঞ্চল্যকর চিত্র উঠে এসেছে:
'ফিটিং' ও ব্ল্যাকমেইল ফাঁদ: স্পা সেন্টারে কৌশলে কম বয়সী তরুণ-তরুণীদের নিয়োজিত রাখা হয়। বিত্তবান ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের সেবার নামে এনে আপত্তিকর অবস্থায় ছবি বা ভিডিও ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া বা পরিবারকে জানানোর হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
মাদক ও মানবপাচার সংযোগ: স্পা সেন্টারগুলোর গোপন কক্ষে চলে বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য ও মাদকের বিকিকিনি। একই সাথে তরুণ-তরুণীদের অনৈতিক কাজে বাধ্য করার মাধ্যমে মানবপাচার ও অনৈতিক বাণিজ্যের বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে।
অভিযানের আগেই তথ্য পাচার: সহায়তায় অসাধু কর্মকর্তা!
এলাকাবাসীর প্রধান ক্ষোভ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে। স্থানীয়রা সব জানলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে না। মাঝেমধ্যে অভিযানের খবর শোনা গেলেও বাস্তবে তার কোনো কার্যকারিতা দেখা যায় না।
অভিযোগ: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা এই সিন্ডিকেটের কাছ থেকে নিয়মিত অনৈতিক সুবিধা ও মাসহারা নিচ্ছেন। অভিযানের প্রস্তুতি শুরু হতেই পূর্বমুহূর্তে গোপন বার্তা চলে যায় অপরাধীদের কাছে। ফলে মূল হোতারা মালামাল ও কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে সটকে পড়ে।
ক্ষোভ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শহীদের এই অনৈতিক সিন্ডিকেটের অকাট্য প্রমাণ থাকার পরও কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুশীল সমাজ ও স্থানীয় বাসিন্দারা। দিনদুপুরে এ ধরনের অনাচার চলতে থাকলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির মাধ্যমে এই সিন্ডিকেট উচ্ছেদ এবং এদের মদদদাতা অসাধু পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
প্রতিবেদকের বক্তব্য:
উত্থাপিত এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শহীদ এবং সংশ্লিষ্ট স্পা সেন্টার কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিক মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।