রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
২৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
অপরাধ উন্মোচন
অপরাধ

রাবি গ্রন্থাগারে শিক্ষার্থী মারধর রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার ও শিবির নেতাদের ভিডিও ফুটেজ

…

২৯-০৭-২০২৬২২০০৯
4
রাবি গ্রন্থাগারে শিক্ষার্থী মারধর  রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার ও শিবির নেতাদের ভিডিও ফুটেজ
"হাতে বেলচা নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের দিকে তেড়ে যাচ্ছেন রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার।"

সাজিদ হোসেন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে ঢুকে প্রক্টর ও পুলিশের সামনেই তিন শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় মারধরের ঘটনায় রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার এবং শাখা ছাত্রশিবিরের শীর্ষ ও পদধারী নেতাদের প্রত্যক্ষ তাণ্ডবের প্রমাণ মিলেছে একাধিক ভিডিও ফুটেজে। এর আগে ২০১৪ সালে সান্ধ্য কোর্স বিরোধী আন্দোলনের সময় সহিংস পরিস্থিতিতে শিক্ষকেরা গ্রন্থাগারের সামনে 'মানবঢাল' তৈরি করে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করেছিলেন। তবে এবার '২৪-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিতদের হাত দিয়েই গ্রন্থাগারের ভেতর ঢুকে এমন বর্বরোচিত হামলায় তীব্র ক্ষোভে ফুঁসছে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার।

বেলচা ও লাঠি হাতে আম্মার: "তোরে একবারে পুঁইতা ফেলব"

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মারধরের একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার হাতে বেলচা নিয়ে চিৎকার করতে করতে গ্রন্থাগারের দিকে তেড়ে যাচ্ছেন এবং সহযোগীদের বাধার মুখে আনাস নামের এক শিক্ষার্থীকে হুমকি দিয়ে বলছেন, "তোরে একবারে পুঁইতা ফেলাব কিন্তু, একবারে পুঁতে ফেলব।" আরেকটি ভিডিওতে পাঠকক্ষের ভেতরে প্রক্টরের উপস্থিতিতেই লাঠি দিয়ে এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পেটাতে দেখা যায় আম্মারকে। এ সময় শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামও সেখানে অবস্থান করছিলেন।

ভিডিওতে স্পষ্ট শিবিরের পদধারী নেতাদের উপস্থিতি

মারধরের ঘটনায় ছাত্রশিবির নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করলেও ভিডিও ফুটেজে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। এতে রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির, শিবিরের মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজীব, সিনেট সদস্য ও শিবিরের মনিটরিং কো-অর্ডিনেটর ফজলে রাব্বি ফাহিম, রাকসুর তথ্য সম্পাদক বি এম নাজমুস সাকিব, বিতর্ক সম্পাদক ইমরান লস্কর এবং রমজান আলীকে মারধরে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। প্রক্টরের সামনেই শিক্ষার্থীকে ঘুষি, চড়-থাপ্পড় এবং চেয়ার তুলে আঘাত করার পাশাপাশি গুরুতর আহত এক শিক্ষার্থীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্স থেকে টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে লাথি মারতেও দেখা যায় তাদের।

"বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃতির জঘন্য অবমাননা"—শিক্ষকদের ক্ষোভ

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা এই ঘটনাকে মব-সন্ত্রাস ও বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃতির চরম অবমাননা হিসেবে অভিহিত করেছেন। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আ-আল মামুন বলেন, “প্রশাসনের উপস্থিতিতে গ্রন্থাগারে ঢুকে এভাবে মারধর করেছে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দাবি করা ব্যক্তিরা। এটি ভীষণভাবে বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃতির অবমাননা এবং এর চেয়ে জঘন্য ব্যাপার আর কিছু হতে পারে না।” ২০১৪ সালে গ্রন্থাগারের বাইরে মানবঢাল হয়ে দাঁড়ানো অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক গোলাম সারোয়ার বলেন, “তখন শিক্ষার্থীদের রক্ষায় শিক্ষকেরা ঢাল হয়েছিলেন, কিন্তু আজ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতেই শিক্ষার্থীরা আক্রান্ত—এটি অত্যন্ত লজ্জার।”

ক্ষোভের মুখে আম্মারের যুক্তি

হামলার বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, প্রশাসন গত দুই বছর ধরে প্রকাশ্য ছাত্রলীগের ওপর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। রাকসু ভবনে তাঁদের ওপর হামলা করা হয়েছিল জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “রাকসু প্রতিনিধিদের ওপর হামলা করা হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করা হবে না—এর নিশ্চয়তা কী?” এদিকে রাবির ক্রিয়াশীল বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই ঘটনাকে 'মব জাস্টিস' অ্যাখ্যা দিয়ে অনতিবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত

— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মোট ০ প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।

প্রকাশক
নিজস্ব প্রতিবেদক
অপরাধ উন্মোচন
নিউজলেটার

দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান

যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।