জাতীয় সংসদে গঠিত হলো আরও ১০ কমিটি, বিরোধী দল পেল মাত্র একটি পদের ভার!

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আরও ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ রোববার রাতে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রস্তাব পাসের মাধ্যমে এসব কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে নতুন করে গঠিত ১০টি কমিটির কোনোটিতেই সভাপতি পদে বিরোধী দলের কোনো সদস্যকে রাখা হয়নি। এখন পর্যন্ত সংসদে মোট ৩৬টি কমিটি গঠন করা হলেও একমাত্র ‘সরকারি হিসাব সংক্রান্ত কমিটি’ ছাড়া সবগুলোর নেতৃত্বই সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের হাতে রয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
যে ১০ পদে যাদের নতুন দায়িত্ব
আজ রাতে জাতীয় সংসদে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি পৃথকভাবে ১০টি সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হয়েছেন আবদুস সালাম পিন্টু। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে আবুল খায়ের ভূঁইয়া এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে মুন্সী রফিকুল আলমকে সভাপতি করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটিতে জয়নুল আবদিন ফারুক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। এ ছাড়া মৎস্য ও প্রাণিসম্পদে খায়রুল কবির খোকন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় মাহমুদা হাবীবা, সংস্কৃতিতে বরকতউল্লা বুলু এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক কমিটিতে আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞাকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কৃষি কমিটিতে রদবদল
এদিকে নতুন কমিটি গঠনের পাশাপাশি আজ পুরোনো একটি কমিটিতে রদবদল আনা হয়েছে। পুনর্গঠিত কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে আরেক সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেনকে। উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদে মোট ৫০টি কমিটি রয়েছে—যার মধ্যে ৩৯টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত এবং ১১টি বিষয়ভিত্তিক। এখন পর্যন্ত ৩৬টির গঠন সম্পন্ন হলেও বাকি ১৪টি কমিটি গঠনের কাজ এখনও বাকি রয়েছে।
সংসদীয় চর্চায় ভারসাম্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক ও সংসদ বিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদীয় গণতন্ত্রে স্থায়ী কমিটিগুলো মূলত সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মূল হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। ঐতিহ্যগতভাবে বা ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের গণতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ভিত্তিক কমিটিগুলোতে বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের সভাপতি করার নীতি অনুসরণ করা হয়, যাতে সংসদীয় তদারকি নিরপেক্ষ থাকে। সবকটি কমিটিতে একচ্ছত্র আধিপত্য থাকলে আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক মূল্যায়নে বিরোধী দলের কণ্ঠ কোণঠাসা হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। দীর্ঘমেয়াদে এমন চর্চা সংসদীয় কার্যকারিতা ও রাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।