সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
অপরাধ উন্মোচন
অপরাধ

বিআরটিএ-তে গোপন তথ্য পাচার ও সাংবাদিকদের হুমকির অভিযোগ এডি শেখ ইমরানের বিরুদ্ধে

১৯-০৮-২০২৬
4
বিআরটিএ-তে গোপন তথ্য পাচার ও সাংবাদিকদের হুমকির অভিযোগ এডি শেখ ইমরানের বিরুদ্ধে
বিআরটিএ মিরপুর সার্কেলের বিতর্কিত সহকারী পরিচালক (এডি) শেখ ইমরান ও কার্যালয়ের দাপ্তরিক দৃশ্য।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রধান কার্যালয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির তোয়াক্কা না করেই চলছে অনিয়ম ও গোপন তথ্য পাচারের মহোৎসব। সংস্থাটির ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১ (মিরপুর)-এর বিতর্কিত সহকারী পরিচালক (এডি) শেখ ইমরানের বিরুদ্ধে জমা পড়া লিখিত অভিযোগ মুহূর্তের মধ্যে পাচার হয়ে গেছে তাঁরই হাতে। শুধু তথ্য পাচারই নয়, অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরে নিজের অপরাধ ঢাকতে অনুসন্ধানী কাজে যুক্ত দুই সাংবাদিক—মাহমুদুল হাসান ও রাহিমা আক্তার মুক্তাকে সরাসরি হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

চেয়ারম্যান দপ্তরের নিরাপত্তা ভেঙে কীভাবে লিক হলো নথি?

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২ আগস্ট ভুক্তভোগী নাগরিক আবদুল্লাহ আল মামুন বিআরটিএ চেয়ারম্যান এবং অডিট ও প্রশাসন শাখা বরাবর এডি ইমরানের অনিয়ম নিয়ে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। চেয়ারম্যান দপ্তরে এই অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন পিএ-২ রেজাউল। কিন্তু চাঞ্চল্যকরভাবে, জমা দেওয়ার পরপরই সেই স্পর্শকাতর নথির কপি পৌঁছে যায় অভিযুক্ত এডি ইমরানের টেবিলে। অভিযোগ উঠেছে, পিএ-২ রেজাউল দীর্ঘ দিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে ভেতরের গোপন অভিযোগপত্র অসাধু কর্মকর্তাদের কাছে পাচার করে আসছেন। এই তথ্য পাচারের সুনির্দিষ্ট প্রমাণাদি ইতিমধ্যেই সংবাদকর্মীদের নজরদারিতে এসেছে।

"কেউ আমার কিছুই করতে পারবে না"—সাংবাদিকদের প্রকাশ্য হুমকি

তদন্তের পথ রুদ্ধ করতে এবং নিজের অফিশিয়াল ক্ষমতার দাপট দেখাতে এডি শেখ ইমরান চরম বেপরোয়া আচরণ শুরু করেছেন। অডিট বা চেয়ারম্যানের কাছে নালিশ করে কোনো লাভ হবে না উল্লেখ করে তিনি প্রকাশ্যে হুঙ্কার ছেড়ে বলেন, "কেউ আমার কিছুই করতে পারবে না!" চাকরির মেয়াদের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে একজন দায়বদ্ধ সরকারি কর্মকর্তার এমন অসৌজন্যমূলক ও হুমকিসুলভ আচরণে স্তম্ভিত সেবাগ্রহীতা ও সংশ্লিষ্টরা।

মিস্ত্রি মিরাজ সিন্ডিকেট ও ক্যাফেটেরিয়ার ভুয়া বিল

অনুসন্ধানে এডি শেখ ইমরানের দুর্নীতির মূল সহযোগী হিসেবে উঠে এসেছে BIC মিস্ত্রি মিরাজের নাম। অভিযোগ রয়েছে, ফিটনেস শাখা থেকে ওঠা অবৈধ অর্থ সংগ্রহ, হিসাবরক্ষণ এবং বণ্টনের মূল রূপকার এই মিরাজ। কেবল ঘুষ গ্রহণই নয়, ভুয়া দাপ্তরিক খরচের ভাউচার বানিয়ে জুনিয়র কর্মকর্তাদের ফান্ড থেকে এডি ইমরানের ব্যক্তিগত বিকাশ খরচ, প্রতিদিনের নাশতা এবং ক্যাফেটেরিয়ার বিল পরিশোধ করতে বাধ্য করা হয়।

সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

আবদুল্লাহ আল মামুনের দাখিল করা আবেদনে এডি ইমরানের কক্ষে বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াত প্রমাণে কার্যালয়ের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ অবিলম্বে জব্দ ও সংরক্ষণের জোর দাবি জানানো হয়েছে। দাপ্তরিক তথ্য পাচার এবং সাংবাদিকদের হুমকির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন সংবাদকর্মীরা। তারা জানিয়েছেন, তথ্য পাচারকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রমাণাদিসহ খুব শিগগিরই বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। একই সাথে, অবসরের দোহাই দিয়ে এডি ইমরান ও তাঁর সহযোগীরা যাতে পার না পান, সেজন্য দ্রুত উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত শুরুর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ সেবাগ্রহীতারা।

— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মোট ০ প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।

প্রকাশক
নিজস্ব প্রতিবেদক
অপরাধ উন্মোচন
নিউজলেটার

দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান

যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য ()

মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।