মক্কায় সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান ঐতিহাসিক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ভূরাজনীতিতে নতুন মোড়

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বহুমুখী সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের অনির্দেশ্য নীতির মুখে নিজেদের সুরক্ষায় নতুন আঞ্চলিক সামরিক বলয় গড়ে তুলছে মুসলিম বিশ্বের প্রধান ৩ শক্তি। গতকাল শুক্রবার (৭ আগস্ট ২০২৬) সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে ঐতিহাসিক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’। চুক্তি অনুযায়ী, সদস্য তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।
একই সাথে যেকোনো বৈদেশিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সামরিক তথ্য আদান-প্রদান, কৌশলগত সহায়তা ও যৌথ প্রতিরোধ জোরদার করার অঙ্গিকার করা হয়েছে। মক্কায় অনুষ্ঠিত এই ত্রিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ উপস্থিত ছিলেন।
ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও বাড়তে থাকা সংশয়
বিশ্লেষকদের মতে, দশকের পর দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তায় মার্কিন অংশীদারত্বের ওপর নির্ভরতা থাকলেও সাম্প্রতিক ইরান-মার্কিন সংঘাত সেই আস্থায় চির ধরিয়েছে। রাইস ইউনিভার্সিটির মিডল ইস্ট ফেলো ক্রিস্টিয়ান কোটস উলরিচসেন মনে করেন, ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত ও হরমুজ প্রণালি সংকটে আঞ্চলিক মিত্রদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়াই সৌদি আরবকে বিকল্প কৌশলগত অংশীদার খোঁজার সুযোগ করে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সিংহভাগ ইসরায়েলে পাঠানোর ফলে সৌদি আরবসহ অন্যান্য মিত্ররা ড্রোন ও রকেট হামলায় অরক্ষিত হয়ে পড়েছিল। এর ফলে ওয়াশিংটনকে পুরোপুরি বাদ না দিয়ে বাড়তি নীতিগত ও সামরিক বিকল্প তৈরি করতেই ইসলামাবাদ ও আঙ্কারাকে পাশে টেনেছে রিয়াদ।
ন্যাটোর আদলে যৌথ প্রতিরোধ এবং ভূরাজনৈতিক সিগন্যাল
মোটাদাগে ন্যাটোর 'আর্টিকেল ৫'-এর মতো "একজনের ওপর আক্রমণ মানে সবার ওপর আক্রমণ" নীতিতে গড়া এই চুক্তিকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক সিনা তোসি নতুন ভূরাজনৈতিক যুগের সূচনা বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, "এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সামরিক জোট নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের মুখে আঞ্চলিক দেশগুলো কীভাবে নিজেদের নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্মূল্যায়ন করছে, তারই স্পষ্ট বার্তা।"
তবে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক ইয়াসমিন ফারুকের মতে, এই চুক্তি ইরান বা অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে একটি ‘আদর্শগত প্রতিরোধ’ (Deterrence) হিসেবে কাজ করবে। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং যুদ্ধপরবর্তী ক্ষমতা ভারসাম্য বজায় রাখাই এই ত্রিদেশীয় অক্ষের মূল দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।