
উত্তরা ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা মাকসুদুর আলমকে নিয়ে সম্প্রতি একটি অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন তাঁর সহকর্মী, পরিচিতজন এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা। সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক লিখিত বিবৃতিতে তারা দাবি করেছেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং এতে একজন সরকারি কর্মকর্তার পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে।
প্রতিবাদকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবেদনে মাকসুদুর আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, দালালচক্র পরিচালনা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের যে অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলোর পক্ষে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা নির্ভরযোগ্য তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়া ছাড়াই একতরফাভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়, মাকসুদুর আলম দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি নিয়ম ও বিধি অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন কর্মরত থাকার বিষয়টি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ।
প্রতিবাদকারীদের মতে, এটিকে ব্যক্তিগত প্রভাব বা বিশেষ সুবিধার ফল হিসেবে উপস্থাপন করা হলে তা বিভ্রান্তিকর বার্তা সৃষ্টি করতে পারে।
ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন আবেদন ও ফাইল নিষ্পত্তিতে বিলম্বের বিষয়ে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এসব কার্যক্রম অনেক সময় নথি যাচাই, আইনি জটিলতা এবং কারিগরি প্রক্রিয়ার কারণে সময়সাপেক্ষ হয়ে থাকে।
তাদের দাবি, নিয়ম মেনে কাজ করার ফলে যে স্বাভাবিক বিলম্ব তৈরি হয়, সেটিকে ইচ্ছাকৃত হয়রানি বা দুর্নীতি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, খিলক্ষেত এলাকার রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক কিংবা দালাল সিন্ডিকেট পরিচালনার যে অভিযোগ প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট নথি, সরকারি অনুসন্ধান কিংবা তদন্তের তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি।
তাদের মতে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই হওয়া উচিত। বিচারিক বা প্রশাসনিক তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কাউকে দোষী হিসেবে উপস্থাপন করা সাংবাদিকতার বস্তুনিষ্ঠতার প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
মাকসুদুর আলমের সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা মনে করেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রকাশিত অভিযোগ একজন সরকারি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তারা বলেন, অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত হওয়া উচিত। তবে তদন্তের আগে কোনো ব্যক্তিকে ‘দুর্নীতির কেন্দ্রবিন্দু’ হিসেবে চিত্রিত করা তাঁর দীর্ঘদিনের কর্মজীবনের সুনামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিবাদকারীরা সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রকাশিত তথ্যগুলো পুনরায় যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা এই প্রতিবাদলিপি যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
তাদের বক্তব্য, গণমাধ্যমের দায়িত্ব হচ্ছে তথ্যের সব পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরা এবং সত্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন নিশ্চিত করা।
গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় হওয়ায় তা অনুসন্ধান ও প্রকাশ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া, তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা এবং তদন্তাধীন বিষয়কে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন না করাও সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ নীতি।
বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের যুগে কোনো অভিযোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সব পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরা জনআস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের ক্ষেত্রে অভিযোগ, প্রতিবাদ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান—সবকিছুই সমান গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা প্রয়োজন।
বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হয়নি বলে জানা গেছে।