
রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে বর্বর নির্যাতনের মাধ্যমে ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় চক্রের মাস্টারমাইন্ডসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগ। একই সঙ্গে অপহৃত ব্যবসায়ীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিপিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগ স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আজ সোমবার (১৫ জুন) এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৮ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উত্তরা পশ্চিম থানার সেনপাড়া এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী আমিরুর রহমান (৫০) অপহরণকারীদের কবলে পড়েন। চক্রের সদস্যরা তাকে জোরপূর্বক অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তার ওপর তীব্র শারীরিক মারধর ও নির্যাতন চালিয়ে পরিবারের কাছে ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
পরবর্তীতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিতে অপহরণকারীরা ভিকটিমকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজারসহ বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকে এবং মুক্তিপণের টাকা দ্রুত আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করে।
পুলিশ জানায়, ভিকটিমকে আটকে রেখে মুক্তিপণ না দিলে প্রাণে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি তার ওপর চালানো নির্যাতনের লোমহর্ষক ভিডিও ধারণ করে পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠিয়ে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে অপহরণকারীরা।
একপর্যায়ে ভিকটিমের পরিবার তার জীবন রক্ষার তাগিদে আত্মীয়-স্বজনদের সহযোগিতায় অপহরণকারীদের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২৫ লাখ টাকা পাঠায়। কিন্তু অর্থলোভী অপহরণকারীরা টাকা পাওয়ার পরও আমিরুর রহমানকে মুক্তি না দিয়ে আরও মোটা অঙ্কের অর্থের জন্য চাপ দিতে থাকে এবং তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়।
কোনো উপায় না দেখে ভিকটিমের পরিবার উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশের সহযোগিতা চায়। অভিযোগ পেয়েই পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্তে বিশেষ অভিযান শুরু করে।
অভিযানের একপর্যায়ে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁ এলাকায় একযোগে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. সজিব মিয়া (২৯) — চক্রের মূল মাস্টারমাইন্ড, আব্দুল আলিম বাবু (৩০) — সহযোগী, মো. মাহিউদ্দিন (৩৬) — সহযোগী
উত্তরা বিভাগ পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা একটি পেশাদার অপহরণকারী চক্রের সদস্য। ভিকটিম আমিরুর রহমানকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।