বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি (বাপ্পি):
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার হোগলাকান্দি গ্রামের হামিদের বাড়ির মোড়টি দীর্ঘদিন ধরে এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছিল। ঢালাই রাস্তার ভেতরের মাটি সরে গিয়ে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় খাকান্দা ফেরিঘাট ও পাঠামারা রুটের হাজারো পথচারী প্রতিনিয়ত চরম দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছিলেন। তবে এই তীব্র জনদুর্ভোগ নিয়ে জনপ্রিয় অনুসন্ধানী নিউজ পোর্টাল 'অপরাধ উন্মোচন'-এ বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে এবং দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তীব্র জনদুর্ভোগ ও মরণফাঁদ
সরেজমিনে দেখা যায়, হোগলাকান্দি সহ আশপাশের রূপসদী, বেলানগর, দক্ষিণপাড়া এবং খাকান্দা ফেরিঘাটের পথে যাতায়াতকারী হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এই রাস্তাটি ব্যবহার করেন। ঢালাই রাস্তার একপাশ থেকে মাটি সরে গিয়ে এমন বিপজ্জনক গর্তের তৈরি হয়েছিল, যা দেখলে পথচারীদের চোখে-মুখে আতঙ্ক ফুটে উঠত। রাতে বা বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিত; প্রায়ই উল্টে যেত মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও ভ্যান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রশাসনিক কোনো ব্যবস্থা না পেয়ে এর আগে তারা নিজেরা চাঁদা তুলে রাস্তাটি সাময়িক মেরামত করেছিলেন। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো ড্রেন না থাকায় বৃষ্টির পানিতে ঢালাইয়ের নিচের মাটি ধুয়ে বারবার এই বিশাল গর্তের সৃষ্টি হতো।
'অপরাধ উন্মোচন'-এর প্রভাব ও প্রশাসনের তৎপরতা
হোগলাকান্দি মোড়ের এই 'মৃত্যুকূপ' নিয়ে 'অপরাধ উন্মোচন'-এ সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তা স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সংবাদ প্রকাশের পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে তাৎক্ষণিকভাবে কথা বলেন এবং বিষয়টি নজরে আনেন বিশিষ্ট সাংবাদিক স্বাধীন সরকার।
এরই প্রেক্ষিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জুনায়েদ সাকি এবং বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইঞ্জিনিয়ার ফজলে রাব্বি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দ্রুততম সময়ে রাস্তাটি টেকসইভাবে মেরামত এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।
এলাকাবাসীর স্বস্তি ও অভিনন্দন
প্রশাসনের এই দ্রুত ও আন্তরিক পদক্ষেপে হোগলাকান্দি ও আশপাশের গ্রামবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দ্রুত কাজ শুরু হতে দেখে আনন্দ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা তোফাজ্জল ফকির বলেন, "এত দ্রুত এই মরণফাঁদ থেকে মুক্তি পাব ভাবিনি। প্রশাসনের এই দ্রুত কার্যক্রম দেখে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।"
জনদুর্ভোগ নিরসনে এত দ্রুত সাড়া দেওয়ায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তোফাজ্জল ফকির সবাইকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। একই সাথে স্থানীয় সংসদ সদস্য জুনায়েদ সাকি, ইউএনও ইঞ্জিনিয়ার ফজলে রাব্বিসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা এবং 'অপরাধ উন্মোচন' পরিবারকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।